Sunday, September 11, 2016

“আরবের নজদ থেকে বের হবে শয়তানের শিং ও ভূমিকম্প ” ৪র্থ পর্ব

আলোর পথে- 

বাতেল জালেম আঁধার অপশক্তির বিণাশী আগ্রাসন থেকে প্রাণপ্রিয় কেবলাভূমি এবং দ্বীন-মিল্লাত-মানবতার মুক্তির সংগ্রাম ও পবিত্র আল আরবের নাম পরিবর্তনের ইতিহাসের ধারাবাহিক ৩০ পর্বের আজ থাকছে ৪র্থ পর্ব।

আলোই জীবন, আঁধারই বিণাশ । সত্যের আলোকে জীবনের আলোকময় উপলব্ধি আর মিথ্যা মূর্খতার আঁধারের ভিত্তিতে জীবনের উপলব্ধি এক নয়, বিপরীত ধারা । আঁধারের আবরণ ভেদ করে চক্রজাল নস্যাৎ করে আলোর জগতে পৌঁছতেই হবে । আলোর সাথে একাকার হয়ে যেতে হবে, আলোর ধারক বাহক প্রদীপ হয়ে যেতে হবে, জীবনই আলো হয়ে যেতে হবে এবং আঁধার থেকে সবার মুক্তির সাধনায় এগিয়ে যেতে হবে । আলো-আঁধার তথা সত্য মিথ্যা উভয়েরই বিপরীত কিন্তু পূর্ণ জীবন কাঠামো আছে। আত্মা ও জীবনের সব স্তর তথা রাজনীতি রাষ্ট্রব্যবস্থা ‍বিশ্বব্যবস্থা সব কিছুই আলো আঁধারের কোন না কোনটার ভিত্তিতে চলছে। তবে জীবনের সব স্তরের ভিত্তি ব্যক্তি জীবনের আত্মিক উপলব্ধি।
আত্মিক উপলব্ধি সত্যের আলোকে আলোকিত প্রজ্ঞাময় থাকলে তাকে কোন আঁধার মিথ্যা মূর্খতা গ্রাস করতে পারে না। আলো অবিনশ্বর, চিরকল্যাণ, আঁধার নশ্বর যা অলীক সবার ক্ষতি করে একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু দুনিয়ায় আলো-আঁধারের ধারা টিকে থাকা প্রাকৃতিক নয়, অছিলা ও কার্জ নির্ভর।

আঁধারের মূর্খতার চেতনা মানুষকে এমনভাবে অন্ধ করে দেয় যে সে নিজেকে চিনতে পারে না, যে আঁধারের হাতিয়ার বস্তুগত চেতনার অন্ধত্ত্ব। সত্যের আলোকময় আত্মিক উপলব্ধির অক্ষমতা তাকে আঁধার জীবন কাঠামোর অংশ করে তোলে। একটা মানুষ যখন কেবল লিংগ-ভাষা-গোত্র-বর্ণ রাষ্ট্র ইত্যাদি বস্তুর ভিত্তিতে নিজের আত্মা, স্বত্ত্বা ও জীবনের মূল পরিচয় নির্ণয় করে তখন সে আসলে আঁধারে থেকে যায়, মানবসত্ত্বাও হারিয়ে ফেলে, বস্তু তার উর্দ্ধে চলে যায়, সে বস্তুভিত্তিক বস্তুবাদী হয়ে যায়, জীবনের সত্য হারিয়ে উপলব্ধির ভিত্তি হয়ে যায় মিথ্যা-আঁধার-মূর্খতা । আর ব্যাক্তিজীবন থেকে মতবাদ ও রাষ্ট্র এবং মতবাদ ও তদভিত্তিক রাষ্ট্র থেকে ব্যক্তি জীবনের আঁধার চক্রে জীবন ঘুরতে থাকে । বস্তুবাদের আঁধারে নিমজ্জিত হলে বস্তুবাদী আঁধার প্রতিবন্ধী দৃষ্টিভঙ্গী তৈরি হয়, ফলে বস্তুর উর্ধে মানবসত্ত্বা যেমন উপলব্ধিতে অক্ষম হয়ে হারিয়ে ফেলে, তেমনি তাওহীদ রেসালাত ও বুঝতে পারেনা, ফলে আল্লাহতাআলার
নূর ও রাসুলকেও নিজেদের মত মানুষ কিম্বা মৃত মনে করে আঁধার কূপরের ধারক হয়ে থাকে ।
আলোর ভিত্তিতে আত্না ও জীবনের রুপরেখা তৈরি হতে হবে । আলো না থাকলে আঁধারই থাকবে এটাই বাস্তবতা । আত্না ও জীবনের মূল আলো একমাত্র রেসালাতের আলো, যে আলোই ইলাহিয়াত থেকে আগত আলো , ইলাহিয়াতে সংযুক্ত আলো , যা জীবন ও জ্ঞানের অন্য  সকল আলোর উৎস, সকল আঁধার থেকে যে আলোর রক্ষা করে বাঁচিয়ে রাখে এবং গন্তব্যে পৌঁছে দেয় । এভাবে রেসালাত কেন্দ্রিক তাওহীদ ভিত্তিক জীবন চেতনাই আত্নার আলো আর এর বিপরীত বস্তুবাদী নাস্তিক্যবাদী চেতনাই চরম আঁধার, অন্য সকল আঁধারের উৎস ।


- ইমাম হায়াত

বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন (World sunni movement) এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সার্বজনীন মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থার দিকদর্শন বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব এর প্রবর্তক - ইমাম হায়াত।


শেয়ার করুন