Sunday, October 2, 2016

ইসলাম প্রচারের প্রয়োজনীয়তা



প্রিয় মুসলিম জনতা, জেনে রাখুন যে কোন জাতি, দল ইত্যাদি টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন একতা, সহনশীলতা, শৃংখলা ও বাস্তব শিক্ষা। একতা রক্ষার জন্য বিভিন্ন দল-উপদলের সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও বংশগত সর্ম্পককে ঐক্যের উপাদান হিসেবে ধরা হয়েছে। যেমন আরব গোত্রসমূহের মধ্যে কোরাইশকে একজাতি ও বনু তামীমকে আর এক জাতি মনে করা হত। কেউ বর্ণগত পার্থক্যকে ঐক্যের উপাদান হিসেবে ধরে নিয়েছিল। ফলে কৃষ্ণাঙ্গদের একজাতি এবং শেতাঙ্গদের ভিন্নজাতি মনে করা হয়। কোথাও দেশ তথা ভৌগলিক অবস্থানগত ও ভাষাগত ঐক্যকে একত্বের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ফলে হিন্দিভাষাভাষীগণ একজাতি, আরবীগণ আরেক জাতি হয়ে গেছে। বাংলাভাষাভাষীগণ একজাতি, ইংরেজীভাষাভাষীগণ আরেক জাতিতে পরিনত হয়েছে। আবার কোথাও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত কিছু নিয়ম-কানুনকে ঐক্যের কেন্দ্র্রবিন্দু ধরা হয়েছে। যারা এ নিয়ম মানেনা, তারা ভিন্ন জাতি।

 যেমন ভারতের হিন্দু ও আর্য সমাজের অবস্থা দেখুন। মহান স্রষ্টা আল্লহপাক বলেছেন, ঐক্যের একমাত্র শক্ত রজ্জু হল কোরআন ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ হল প্রিয় রাসূলের ছুন্নাহ, প্রিয়নবীর পরিবার (হযরত মা ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার বংশধর বা আওলাদগণ) ও সত্যবাদী ইমাম, অলি, মুর্শিদগনের সংশ্রবতা। আল্লাহপাক বলেছেন,‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা সত্যবাদীদের সাথে থাক এবং কখনও রাসূলে পাক হতে বিচ্ছিন্ন হয়ো না”(তাফছীরে রুহুল মাআনী ২য় খণ্ড : ১৯ পৃষ্ঠা )। মোদ্দাকথা, এক আল্লাহর উপর দৃঢ় ঈমান এনে তাঁর প্রিয়তম হাবীব সৃষ্টির অদ্বিতীয়, অতুলনীয়, সর্বাঙ্গনূর প্রিয়নবীকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে বিশ্বাস করে সত্যিকারের মুসলমান হয়ে আওলাদে রাসূল, সাহাবায়ে কেরাম ,ইমামগণ ও কিয়ামত অবধি অলি-মুর্শিদ, নেককার ও সত্যবাদীদের মতে–পথে ও সংশ্রবে থাকলে তারা এক-অভিন্ন মুসলিম জতি এবং এর বিপরীত মতবাদীরা ভিন্ন জাতি হিসেবে গণ্য। এ দলটির পরিচয় এ যে, তারা সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ, অহিংস, অসাম্প্রদায়িক, পরমতসহিষু। এদের একজন বেঁচে থাকলেও কিয়ামত বা মহাপ্রলয় হবে না।

এরাই প্রিয়নবীর একান্ত আপন এবং পক্ষের দল বা সত্যবাদী দল যার নাম ছুন্নী ( যে নর-নারী প্রিয়নবী ও সাহাবায়ে কেরামের মতে ও পথে আছেন– প্রিয় রাসূলকে প্রাণের চাইতেও অধিক ভালবাসেন ও রাসূলকে পূণাঙ্গ বিশ্বাস করেন, মনে-প্রাণে নবীজির পক্ষে থাকেন, শরীয়ত বিরোধী নয়, এমন মিলাদ ,কিয়ামকে বিদাত বলে না, পীর-মাশায়েখ, সত্যবাদী, আলেমদের সহচর্যে থাকাটাকে ঈমানের রক্ষাকবচ মনে করে, ইমামদের মানেন, আওলিয়া কেরামের জিয়ারত ও এর জন্য নিয়ত করে তাঁদের মাজারে আসা–যাওয়া করাটাকে মুস্তাহাব মনে করেন, প্রিয়নবীর বেশী-বেশী দরুদ শরীফ বা প্রশংসা করা আনন্দদায়ক, দোজাহানের মহাকল্যাণকর কাজ মনে করেন, সত্য পীরের মাধ্যমে জিকির–আজকারে অংশ নেন, অন্য কোন ধর্মালম্বীকে উত্যক্ত করেন না, পরমতসহিষ্ণুতার সাথে সৎপন্থা অবলম্বন করেন, কেবলমাত্র তারাই সত্যবাদী বা ছুন্নী দলের অন্তর্ভূক্ত), এরা একান্তভাবে ইসলামী জীবন তথা প্রিয়নবী কেন্দ্রিক জীবনের অনুসারী ।   

= আল্লামা ছৈয়দ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ (আগ্রাবাদের পীর সাহেব কেবলা)


শেয়ার করুন