Tuesday, October 4, 2016

ইসলামী জীবন ব্যবস্থা জানতে হবে


ইসলামী জীবন ব্যবস্থার সবকিছু জানা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আল্লাহপাক ও তাঁর প্রিয়তম হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশ্বাসীদের মধ্যে দ্বীন-ইসলামের জ্ঞানে সমৃদ্ধ একটি বিশেষ দল খাকতে হবে যারা অন্যদের শিক্ষা দেবে। মহান আল্লাহপাক এ ঘোষণা দিয়েছেন যেন কপট ও অবিশ্বসীদের নিকট আল্লাহপাকের দেয়া জীবন বিধানে প্রচার-তবলীগ ও অজ্ঞ মুসলিমদের শিক্ষা দিতে পারে। সাধারণত প্রিয়নবীর উম্মতগণ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মাত।কিন্তু যারা ওয়াজ মাহফিল করে এবং ইসলামের প্রচার-প্রসারের কাজে নিয়োজিত তারা সবচাইতে উত্তম। কেননা তারা সারা বিশ্বের মধ্যে সত্যের মুখপাত্র বিশেষ করে মুসলিম জনসাধারণের শিক্ষক। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করতে হবে এবং সকল মুসলমান ঐক্যবদ্ধ খাকতে হবে।

আল্লাহপাক বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা দরকার, যারা তোমাদেরকে সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানাবে, ভালকাজের নির্দেশ দেবেন এবং মন্দকাজ হতে তোমাদেরকে বিরত রাখবেন তারাই সফলকাম (সূরা আল- ইমরান : আয়াত -১০৪)। ‘আর তাদের মত হয়ো না, যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে রাসূল থেকে’ (তফছীরে রূহুল মাআনী)। ‘রাসূল প্রেমিক ঈমানদারদের (ছুন্নী) পখ ব্যতীত অন্য পথে যেও না’ (সূরা আল-ইমরান : আয়াত – ১০৫)। ‘এবং নিদর্শনসমূহ আসার পরও যারা বিরোধীতা করে তাদের জন্য ভয়ংকর আজাব রয়েছে’ (সূরা নিছা : আয়াত – ১১৫)। হযরত দাহহাক রাদ্বিযাল্লাহহু আনহু বলেন, ‘এরা হল সাহাবায়ে  কেরামের দল’ । অন্যরা বলেছেন, ‘এটি মুজাহেদ ও আলেমদের দল’ ।

মোটকথা যারা আল্লাহপাকের তৌহিদে বিশ্বাসী ও প্রিয় রাসূলের রিসালাতকে সেচ্ছায় সসম্মানে বিশ্বাস করে তারাই কল্যাণের বিশেষ বিশেষ দল । এরা নিজে ন্যায় পরায়ন হবে, অন্যদেরও ন্যায়ের প্রতি আহ্বান জানাবেন । এরা নিজেরা অন্যায় হতে বেঁচে থাকবেন, অন্যদের ও বাঁচাবেন । শক্তি থাকলে আপন হস্ত দ্বারা বা মুখ(জবান) দ্বারা প্রতিরোধ করবেন, নতুবা অন্তরে ঘৃণা করবেন । কিন্তু এটা দূর্বল ইমানের পরিচায়ক । রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহপাক তোমাদের জন্য তিনটি বিষয় পছন্দ করেছেন এবং তিনটি বিষয় অপছন্দ করেছেন । ১.তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করবে,তাঁর সাথে কাউকে অংশীদার করো না ।২.আল্লাহর কিতাব পবিত্র কোরআনকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখবে, অন্যায় হতে বেঁচে থাকবে । ৩.শাসনকর্তার প্রতি শুভেচ্ছার মনোভাব পোষণ কেরবে ।

আর নিষিদ্ব বিষয়সমূহ হল : ১. অযথা প্রশ্ন করা হতে বিরত থাকবে । বোখারী শরীফে উল্লেখিত আছে, আগেকার উম্মাতগণ নবীদের সর্ম্পকে বেশী প্রশ্ন করে ধ্বংস হয়ে গেছে । ২. সম্পদ নষ্ট করা হতে বিরত থাকিও ৩.বিনা প্রয়োজনে ভিক্ষা করিও না (তাফসীরে ইবনে কাসীর ১ম খন্ড-৩৫৩ পৃষ্ঠা ) । প্রিয় নবীর উম্মতের মধ্যে মধ্যে তিয়াত্তর দল হয়েছে । এর মধ্যে একটিমাত্র দল   নাজাতপ্রাপ্ত। তাদের পরিচয় হলো, তারা প্রিয়নবী ও সাহবায়ে কেরামের মতে ও পথে থাকবেন ।তাদের নাম আহলেচ্ছুন্নাত ওয়াল জামাত (মিরকাত ১ম খন্ড : ৫০০ পৃষ্ঠা, ইকতেজাউস সিরাতুল মুস্তা হাকীম :১৩৬ পৃষ্ঠা [ ইবনে তাঈমিয়া] )।
= আল্লামা ছৈয়দ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ (আগ্রাবাদের পীর সাহেব কেবলা)

শেয়ার করুন