Wednesday, October 19, 2016

বাতেল জালেম অপশক্তির গ্রাস থেকে সত্য ও মানবতার মুক্তি সাধনার সর্বকালের সর্বোচ্চ মহা শাহাদাত, উপলক্ষে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন, পর্তুগাল শাখার উদ্যোগে লিসবনের এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত


পর্তুগাল প্রতিনিধিঃ

         বাতেল জালেম অপশক্তির গ্রাস থেকে সত্য ও মানবতার মুক্তি সাধনার সর্বকালের সর্বোচ্চ মহা শাহাদাত, ঈমানী অস্তিত্ত্বের স্মারক ১০ই মহররম শাহাদাতে কারবালা দিবস মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে বিশ্ব সুন্নী  আন্দোলন, পর্তুগাল  শাখার উদ্যোগে লিসবনের আহমাদ হলে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


              বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সার্বজনীন মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থার দিকদর্শন বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব এর প্রবর্তক - ইমাম হায়াত আলাইহে রাহমার দিক নির্দেশনাই ----
এবং জনাব সোহাগ মুন্সীর সভাপতিত্বে ও  নাজিম উদ্দিন চৌধুরীর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জনাব আল মাহজাব, জনাব কাজী জুলহাস মামুন, জনাব আবূ বাক্কার সিদ্দিক, জনাব খাইরুল ইসলাম, জনাব শাহনূর আজাদ, জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুন, জনাব আল আমীন,  জনাব আজাদ চৌধুরী এবং সংঘঠনের পর্তুগাল শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ।

        বক্তারা বলেন- ঈমান বা সত্যে অটল থাকতে হলে, বাতেল বা মিথ্যা থেকে মুক্ত থাকতে হলে, দোজাহানে নাজাতের পথ পেতে হলে, জুলুম স্বৈরতার অপশক্তি থেকে জীবন স্বাধীনতা অধিকার মালিকানা রক্ষা করতে হলে এবং দ্বীনে হককে দুনিয়ায় কায়েম রাখতে হলে কেবল ব্যক্তিগত কিছু আমল নিয়ে গন্ডীবদ্ধ হয়ে থাকলে হবেনা, ১০ই মহররম শাহাদাতে কারবালা দিবস মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবসের শিক্ষা ও লক্ষ্যের সাথে অবশ্যই যুক্ত থাকতে হবে, সম্মিলিত ভাবে আমাদের সবার এ মহান শাহাদাতের শিক্ষার আলোকে চলতে হবে এবং এর লক্ষ্য ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে।


        এ মহান শাহাদাত তথা মহামহিম ইমামে আকবার রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যতই মুসলিম দাবী বা আমল করা হোক ঈমানী অস্তিত্ত্ব থাকবে না, নিজের অজান্তেই জীবন ও দুনিয়া বাতেল জালেম অপশক্তির দখলে চলে যাবে। কি জন্য কোন লক্ষ্যে এ মহান শাহাদাত, কিসের পক্ষে এবং কিসের বিপক্ষে, কি রক্ষার জন্য এবং কি থেকে মুক্তির জন্য এ মহান শাহাদাত, আমাদের আজকের অবস্থান কোথায়, আমরা কে আজ কোথায় কোন পক্ষে আমাদের জীবন ব্যবহার হচ্ছে, এবং কিভাবে এ মহান শাহাদাতের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নির্দেশনা বাস্তবায়ন সম্ভব তা উপলব্ধি করে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে না পারলে দ্বীন-মিল্লাত-মানবতা ধ্বংস হয়ে যাবে। কারন সত্য ও মানবতার বিরূদ্ধে মিথ্যা ও জুলুম সদা সক্রিয় রয়েছে।

       বক্তারা বলেন কারবালার মহান শাহাদাত-এর দিকদর্শন ব্যতীত ইমানী অস্তিত্ব ও সত্যের মুক্ত প্রবাহ এবং মানবতার মুক্ত জীবন অসম্ভব। মুসলিম ছদ্মবেশে কুফরি অপশক্তি যখন দ্বীনকে বিকৃত ও উৎখাত করে দ্বীনের নামে অধর্ম প্রতিষ্ঠা করছিল তখন কারবালার শাহাদাত ত­া প্রতিহত করে দ্বীনের প্রকৃত ধারা সমুন্নত রাখে বলে উল্লেখ করে বক্তাগন বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ভিত্তিক সার্বজনীন মানবিক রাষ্ট্র ও বিশ্ব ব্যবস্থা খেলাফতে ইনসানিয়াত তথা সত্যের মুক্ত প্রবাহ ও মানবতার মুক্ত দুনিয়া এবং মুক্ত জীবন গড়ে তোলাই মহান শাহাদাতে কারবালার শিক্ষা ও নির্দেশনা।


       এ মহান শাহাদাতের শিক্ষা ও নির্দেশনার উপলব্ধি ও যথাযথ কর্মসূচীর অভাবে দ্বীন বিকৃত বিপর্যস্ত হয়ে গেছে, কেবলাভূমি আল আরব, মিল্লাত ও মানবতা বাতেল জালেম এজিদবাদের কবলে চলে গেছে, সমগ্র মিল্লাত পথ হারা হয়ে পড়েছে। এ মহান শহীদ দিবসের শিক্ষা ও নির্দেশনার উপলব্ধি এবং সম্মিলিত বাস্তবায়নের কর্মসূচীর মধ্যেই রয়েছে আমাদের ঈমানী অস্তিত্ত্ব, দ্বীন ও মিল্লাতের সার্বিক পুনরুত্থান কেবলাভূমির পূনরূদ্ধার এবং সমগ্র মানবতার মুক্তি।

         আলোচনা শেষে  সালাতু সালাম ও মোনাজাতের মাধ্যমে সম্মেলন সমাপ্ত হয়।

শেয়ার করুন