Saturday, October 15, 2016

ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদে মায়ের সংবাদ সম্মেলন ছেলেমেয়ের বিরুদ্ধে


বিশেষ প্রতিবেদনঃ
স্বামীর ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদের কারণে মায়ের সংবাদ সম্মেলন ছেলেমেয়ের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর শহরে এক বৃদ্ধা মহিলা তাঁর স্বামীর নিজবাড়ি থেকে জোরপূবক উচ্ছেদের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর ৩ ছেলেমেয়ের বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার ছোট ছেলের ঘরে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন সাফিয়া খাতুন নামের এই বৃদ্ধাটি। সৈয়দপুর শহরের বাঙ্গালীপুর নিজপাড়ার দারুল উলুম মসজিদ সংলগ্নে বৃদ্ধার ছোট ছেলে মুস্তাফিজ আলীর বাড়িতে ‌এ সংবাদ সম্মেলন করেন সাফিয়া খাতুন।

বৃদ্ধাটি তাঁর লিখিত বক্তব্যে  বলেন, তাঁর স্বামী ডা. মুর্ত্তজা আলী তাঁর নিজের নামে কেনা জায়গা, মুন্সিপাড়া খেঁজুরবাগ এলাকার জমিতে ১৯৮৪ সাল থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে জীবনযাপন করে আসছিলেন। ২০০৯ সালে তাঁর স্বামী ৬ ছেলে ও এক মেয়ে  রেখে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে সাফিয়া তাঁর ছোট ছেলে মো. মুস্তাফিজ আলীর  কাছে থাকে। জীবনের শেষপর্যায় ছোট ছেলের সংসারে থেকে তাঁর  স্ত্রী ও সন্তানের সেবা যত্ন, স্নেহ ভালোবাসা পেয়ে মুগ্ধ হন সাফিয়া খাতুন। এই জন্য তিনি তাঁর পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া কিছু জমি রাজবাড়ী জেলা সদরে  ছোট ছেলে মুস্তাফিজকে  হেবাবিল দলিলের মাধ্যমে দান করেন। আর এর জন্য তৃতীয় ছেলে মোফাখখার আলী স্বপন, ষষ্ঠ ছেলে মোহাম্মদ মুজতাহিদ আলী বাবু এবং একমাত্র মেয়ে সাবিহা আরজুমান্দ বানু নাজনীন মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ‌ওঠে তাঁরা।

তাই গতকাল সংবাদ সম্মেলনে করে সাফিয়া বলেছেন, "সেই জমির  ঘটনার জের ধরে আমার  তিন সন্তান জোটবদ্ধ হয়ে আমাকে আমার স্বামীর ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার  জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়।তারা  আমার আশ্রয়দাতা ছোট ছেলে মুস্তাফিজের বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করে তারা। এই জন্য সামাজিক ভাবে অনেকবার  দফা দফা সালিশি আয়োজন করা হয়। সেই সালিশে আমার তিন সন্তানরা  আমাকে স্বামীর ভিটেবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অনেক চেষ্টা করে। আমি সেই সামাজিক বৈঠকে জীবনের শেষ সময়টুকু স্বামীর ভিটেবাড়িতে থাকার আকুতি জানাই।আমার এই চাওয়াতে তিন ছেলেমেয়ে আরো উত্তেজিত হয়ে ওঠে আমার উপর। ওই সময় তারা  আমাকে গলাধাক্কা নতুবা পুলিশ দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং জামাতার সামনে  আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে তারা।

ওই সময় আমার আহাজারিতে অন্য প্রতিবেশীরা সাহায্য এগিয়ে এলে, ছেলে স্বপন ও বাবুর সন্ত্রাসবাহিনীর ভয়ে সবাই সরে যায়। সামাজিক বৈঠকে তাদের কিছু না হওয়া, পরে ছেলেরা আমাকে  স্বামীর ভিটেবাড়ি থেকে জোর করে বের করে দেয়।এর পর থেকে আমি আমার ছোট ছেলে মুস্তাফিজের বাড়িতে আশ্রয় হয় আমার।" উক্ত সংবাদ সম্মেলনে সাফিয়া খাতুন তাঁর ছেলেদের এই জঘন্য অত্যাচারের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি এইসব  অত্যাচারী, অমানবিক, ও বিবেকহীন কুসন্তানদের হাত থেকে বাঁচাতে এবং সর্বোপরি তাদের কঠিন বিচারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

শেয়ার করুন