Friday, November 11, 2016

ইসলামের দৃষ্টিতে নারী ও পুরুষের অধিকার


বিশেষ কলামঃ
পুরুষ মহিলা সবাই মানুষ হিসেবে সমান যতক্ষন কাফের না হয় এবং ফাসেক না হয়। ঈমান এবং এরপর এলেম সৎগুণাবলী ও তাকওয়াই মর্যাদা ও উচ্চতার ভিত্তি অন্য কিছু নয়। সবার জীবন দয়াময় আল্লাহতাআলার ও তাঁর মহান হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য। বাকী সব সাধারণ দায়িত্ত্ব মাত্র মূল নয়। সবার জীবনে দ্বীনই আসল এবং দ্বীনের পূর্ণাংগ অনুসরণের চেষ্টা তথা আধ্যাত্মিক রাজনৈতিক সব বিষয় মোতাবেক জীবন গড়ার সাধনাও সবার জন্য সামানভাবে প্রযোজ্য। ঈমানের পবিত্র কলেমার শপথ অঙ্গীকার সবার জন্য একই। দ্বীনের হেফাজত ও কায়েমও সবার সাধ্যমত দায়িত্ত্ব রয়েছে। এলেম অর্জনও সবার উপর ফরজ এবং ফরজ অর্জনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তৎসমূহ পালন অর্জন অনুশীলন ফরজ পালনেরই অংশ। 

মানুষের কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল এবং বিধান জরুরত ও অবস্থার উপর নির্ভরশীল ও পরিবর্তনশীল। ঈমান বুঝার জন্য, দ্বীন হাসিলের জন্য, এলম অর্জনের জন্য, দ্বীন প্রচারের জন্য, দ্বীন রক্ষার জন্য, দ্বীন প্রকাশের জন্য, বাতেলকে প্রতিরোধের জন্য এমনকি নিজের জীবনের প্রয়োজনে, জীবিকার প্রয়োজনেও বোনদের বের হওয়া, কাজ করা, পুরুষের নিকট যাওয়া,সাহায্য করা বা সাহায্য নেওয়া, সভা সমিতি মিছিল সংগ্রাম এমনকি যদি সশস্ত্রও হয় প্রয়োজন বশত জায়েজ শুধু নয় ক্ষেত্রবিশিষে ফরজও হয়ে যায়। কোরআনুল করীম ও হাদিস শরীফ থেকে মনগড়া আভিধানিক অর্থ নিয়ে ফতোয়াবাজি করা খারেজী রাফেজী তথা বাতেলদের পথ। আমাদের আহলুছ সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর ফতোয়া কোরআন হাদিস এজমা কেয়াসের নিরিখে আইম্মায়ে কেরামের মাধ্যমে হয়ে থাকে যাহা কোরআন হাদিসের আসল মর্ম।

আমাদের মা সাহাবী যারা কোরআন নাজিল হওয়ার সময় এবং পরেও সব সাহাবায়ে কেরামের সাথে প্রকাশ্য ময়দানে সশস্ত্র যুদ্ধও করেছেন বের হয়েছেন একসাথে চলেছেন সফর করেছেন (মুসলিম শরীফ ২য় খন্ড ১১৬ পৃঃ) পুরুষ কোন মুমিন ভাই অসুস্থ হলে দেখতে গিয়েছেন(বোখারী শরীফ ২য় খন্ড ৮৪৪ পৃঃ) এছাড়া ছতর ফরজ হিজাব ফরজ নয়(কাজী আয়াজ, ২য় খন্ড বজলুল মজহুদ ৫ম খন্ড ৬০ পৃষ্ঠা)। এছাড়া দুহাত, মুখমন্ডল ও পা পর্দা বা ছতরও নয় (বাদায়েচ্ছানায়ে ৫ম খন্ড ১২১ পৃষ্ঠা, বোখারী শরীফের টিকা২য় খন্ড ৭২০ পৃষ্ঠা, ফতহুল বারী ১১ খন্ড ৮ পৃষ্ঠা, শরহে বেকায়া ১৫৬ পৃষ্ঠা, কাজী খান, হিদায়া ৪র্থ খন্ড ৪৪৩ পৃষ্ঠা) অন্যায়ের সম্ভাবনা যেখানে নাই সেখানে শুধু দেখা সাক্ষাত আলাপ আলোচনা ওয়াজ নসীহত শুনা নয় হাত স্পর্শ হাত স্পর্শ করা বা করমর্দন করাও বৈধ (শামী ১ম খন্ড ৩৭৭ পৃষ্ঠা, আলমগীরী ৫খন্ড ৩৬৫ পৃষ্ঠা, ফতোয়ায়ে রেজভীয়া ৯ম খন্ড ১০২ পৃষ্ঠা, বাহারে শরীয়ত ১৬ খন্ড ৭৫ পৃষ্ঠা, বাহরূর রায়েক ৮ম খন্ড ১৯২ পৃষ্ঠা)।

                                                          মূল: ইমাম হায়াত আ'লাইহি রাহমা

                                                                     সংগ্রহে: আল্লামা কাওসারুল আমীন রাসেখ

শেয়ার করুন