Friday, November 25, 2016

জীবন ও দুনিয়ার জন্য প্রয়োজন মানবতার রাষ্ট্র




মানবতার উপর নৃশংসতায় বিবেকবান মন আহত বোধ করবে এবং মানবিক মন থাকলে অবশ্যই কাঁদবে, কিন্ত কেবল নিন্দা ও ক্রন্দনে সীমাবদ্ধ থাকলে অনন্তকাল কাঁদতেই হবে সমাধান বা মুক্তি আসবেনা। আমরা যদি চাই দুনিয়া থেকে এসব খুন- গুম- হিংস্রতা- পাশবতা - অবিচার - শোষণ- বৈষম্য- বিদ্বেষ- স্বৈরদস্যুতা দূর হোক তাহলে আমাদের এসব বর্বরতার মূলে যেতে হবে এবং তা থেকে উদ্ধার ও মুক্তির পথে যেতে হবে। সবকিছুরই উৎস এবং কারন আছে, পাশবতা-বর্বরতা- নৃশংসতা- স্বৈরদস্যুতারও মূল ও উৎস আছে এবং জ্ঞান- ন্যায়- বিবেকবোধ- অধিকার- নিরাপত্তারও মূল ও উৎস আছে, পথ ও প্রক্রিয়া আছে সব দিকেই।

রোগের যেমন কারন থাকে ব্যকটেরিয়া ভাইরাসের সংক্রমণ থাকে, আবার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে শুধু কেঁদে যেমন রোগমুক্ত হওয়া যায়না, তেমনি দুনিয়ায় এসব জীবন বিধ্বংসী অরাজকতা নৃশংসতার পিছনে আছে জীবনবিণাশী মানবতাবিণাশী অপশক্তির প্রাদূর্ভাব ও সবকিছু অপশক্তির জবরদখলে নিয়ে যাওয়ার অসৎ প্রক্রিয়া তাদের একক গোষ্ঠীবাদী অপরাজনীতি, মহাবিপর্যয়কর এ চরম দুরবস্থা থেকে মুক্তির শান্তিময় পথও আছে।
জীবন ও দুনিয়ার নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে রাজনীতি, বর্তমান রাজনীতির নিয়ন্ত্রক হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার বস্তুবাদী মতবাদ ও ধর্মের নামে বিভিন্ন অধর্ম উগ্রবাদ যারা প্রকৃত ধর্ম ও মানবতার শত্রু। দুনিয়াব্যাপী চলমান অরাজকতা- নৃশংসতা- অধিকারহীনতা- খুন- সন্ত্রাস- শোষণ- বৈষম্য- ভয়াবহতার মূলে আছে এসব সত্যবিরোধী ও জীবনবিরোধী অপশক্তির স্বৈরদস্যুতান্রিক অপরাজনীতি, যাদের প্রক্রিয়া হচ্ছে তাদের একক গোষ্ঠীবাদী অপরাজনীতির মাধ্যমে সবার জীবন স্বাধীনতা অধিকার অস্বীকার ও হরন করে রাষ্ট্রকে একক গোষ্ঠীবাদী করে ফেলা।


মানবতার মুক্তির একমাত্র অবিকল্প সুনিশ্চিত পথ ও ব্যবস্থা হচ্ছে সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র ও বিশ্বব্যবস্হা খেলাফতে ইনসানিয়াত বা state and world of humanity, state and world of life . যার উৎস পবিত্র কলেমার আলোক চেতনা, যার মূল হচেছ মানবসত্তার সার্বভৌমত্ত্ব তথা জীবনের সার্বভৌমত্ত্ব অর্থাৎ মানব জীবন বস্তুর উর্ধে- রাষ্ট্রেরও উর্ধে- বর্ডারের উর্ধে, জীবনের মহান স্রষ্টা ও জীবনের সুরক্ষায় তাঁর প্রেরিত মুক্তির মহান আলো ব্যতীত কোনো কিছুই জীবনের উর্ধে নয়, যে ব্যবস্থার ভিত্তি হচ্ছে জীবনের আত্মমালিকানা ও সমগ্র দুনিয়ার সম্মিলিত মালিকানা, মানুষ হিসেবে সবাই সমান, সবার সমান অধিকার ও মর্যাদা, কেউ কোন কারনেই কোথাও সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু নন তথা রাষ্ট্র বা দুনিয়া সবার সব মনুষের এক গোষ্ঠীর নয় সর্বজনীন। ইনসানিয়াত বা মানবতার দৃষ্টিতে এবং প্রকৃত ধর্মের মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও দুনিয়া সব ধর্ম- জাতি- ভাষা- গোত্র সবাইকে নিয়ে সবার জন্য , একক গোষ্ঠীর স্বৈরদস্যুরাষ্ট্র নয়। অন্য সব মানুষের জীবন অস্বীকার করে রাষ্ট্রকে যে কোনো পন্থায় একক গোষ্ঠীবাদী করে ফেলার দস্যুতান্ত্রিক অসুস্থ অমানবিক মানসিক বিকৃতি থেকেই সব রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রীয় অবিচার নিপীড়ন বর্বরতা তৈরী হয়।

একক ধর্ম- জাতীয়তাবাদ- গোত্র- ভাষা- বর্ণ-শ্রেণী ভিত্তিক একক গোষ্ঠীস্বার্থের সব রাজনীতি- রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র প্রকৃত ধর্ম- জীবন ও মানবতার বিরূদ্ধে সন্ত্রাস ও যুদ্ধ । আমরা যারা যে কোন একক গোষ্ঠীবাদী রাজনীতিতে জড়িত আছি তারা সবাই জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে সত্য- ন্যায়- জীবন- মানবতার বিরূদ্ধে কাজ করছি এবং মিথ্যা- অবিচার- পাশবতা-বর্বরতা-খুন-সন্ত্রাস-নৃশংসতা-স্বৈরদস্যুতার সহায়তা করছি। মানবতার উৎস প্রকৃত ধর্ম ও ধর্মের মূল্যবোধ কিন্ত সব ধর্মের ছদ্মনামে এখন অধর্ম উগ্রবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে যা শুধু মানবতার শত্রু নয় আসল ধর্মেরও শত্রু । তথাকথিত একক ধর্মরাষ্ট্র আসলে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষাবিরোধী ও ধর্মের পবিত্র নামের অপব্যবহার এবং ধর্মের আবেগ অনুভূতির অপব্যবহার করে ধর্মকেও অসৎ উদ্দেশ্যে কুক্ষিগত করে ফেলার এক মহাবিপদজনক প্রক্রিয়া।


শুধু ধর্মের নামে নয় একক উগ্রবাদী গোষ্ঠিবাদী রাজনীতি ও রাষ্ট্রের নামে এ জীবনবিরোধী ও মানবতাবিণাশী জংগিবাদি সন্ত্রাসবাদ বস্তুবাদী মতবাদের বিভিন্ন ধারায় একক জাতীয়তাবাদ-একক গোত্র- একক ভাষা -একক বর্ণ- একক লিংগ ও একক শ্রেণীভিত্তিক একক গোষ্ঠীর স্বৈরদস্যুতন্র প্রতিষ্ঠা করে দুনিয়াকে সত্য ও ন্যায়ের বিরূদ্ধে এবং জীবন ও মানবতার বিরূদ্ধে নৃশংস কারাগার ও কসাইখানায় পরিণত করে। আমরা যদি এ চরম দুঃসহ মর্মান্তিক অবস্থা থেকে মুক্তি চাই, অপশক্তির কবলমুক্ত শান্তিময় নিরাপদ জীবন চাই, সব মানুষের অধিকার স্বাধীনতা ভিত্তিক মুক্ত মানবিক দুনিয়া চাই , সত্য ও জ্ঞানের মুক্ত প্রবাহ চাই তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই সার্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র ও বিশ্ব ব্যবস্থার উদ্দেশ্যে মানবতার বিপ্লব সাধন করতে হবে।

বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামো বা রাজনৈতিক ব্যবস্থা একক গোষ্ঠীর স্বৈরদস্যুতন্র যা সব মানুষের অধিকার স্বীকার করেনা বরং উৎখাত করে অর্থাৎ বিরাজমান একক গোষ্ঠীবাদী রাজনীতি আসলে জীবনবিরোধী ও মানবতাবিধ্বংসী অপশক্তির অপরাজনীতি আর এর মাধ্যমে সৃষ্ট কাঠামো জীবন ও মানবতার বিরূদ্ধে তাদের হাতিয়ার মাত্র।
মানবতাকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই মানবতার রাষ্ট্র ও বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে আর এজন্য একক গোষ্ঠীবাদী পাশবতার রাজনীতির পরিত্যাগ করে মানবতার রাজনীতি তথা জীবনের রাজনীতি গড়ে তুলতে হবে ।

              ---জাকির আহসান


শেয়ার করুন