Sunday, November 20, 2016

রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারকে কেন চাপ দেয়া হচ্ছে না ইউএনএইচসিআর





আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মিয়ানমারে মুসলিম নিধনে সে দেশের সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যা অভিযানে প্রতিদিন বাংলাদেশের কাছে আশ্রয় চাচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলিমরা। কিন্তু বাংলাদেশ বিজিবি বর্ডার গার্ড তাদের কে প্রবেশে করতে দিচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গনমাধ্যম জানিয়েছেন, এখন প্রায় প্রতিদিন জীবন বাঁচানোর জন্য তারা বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তে রোহিঙ্গারা আসতেছে কিন্তু বিজিবি তাদেরকে পুশব্যাক করে দেয়। গতকায়েক দিন ধরে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশকে তাদের সীমান্ত খোলা রাখার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের কে মানবিক আশ্রয় দেওয়ার অনুরোধ করতেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় দল গুলো।

তাদের মধ্যে অন্যতম হল বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও সর্বজনীন মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থা- বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক আল্লামা ইমাম হায়াত নির্মম গণহত্যার শিকার অসহায় রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দানের জন্য সরকারের প্রতি জরুরী আবেদন জানিয়ে বলেন, সরকারী ভাবেই এথনিক ক্লিনজিং বা জাতিগত নির্মূল অভিযানের শিকার মা-বোন-শিশু সবাই আজ চরম নির্যাতন ও ব্যাপক হত্যাকান্ডের মূখে বিপন্ন, যাদের আশ্রয় ব্যতীত মৃত্যু ছাড়া পথ নেই।

ইমাম হায়াত বলেন, নিশ্চিত মৃত্যুর মূখে সীমান্ত রূদ্ধ করে তাদের বিতাড়িত করে দেয়া মানবতা বিরুদ্ধ নিষ্ঠুর অবস্থান হবে। তিনি বলেন, এ ভয়ংকর অবস্থায় কিছু আশ্রয়প্রার্থীকে বিতাড়িত করার খবরে আমরা দেশ ও দুনিয়ার  মানবিক বোধসম্পন্ন সমস্ত মানুষ বিস্মিত ও মর্মাহত। 

 ইমাম হায়াত বলেন, সব কিছুর উর্ধ্বে জীবন ও মানবতা এবং জীবন ও মানবতা রক্ষাই সর্বোচ্চ এবাদত। তিনি বলেন, জীবন ও মানবতার সংকটে আর্তনাদে সাড়া দিতে অক্ষম হলে রাষ্ট্রব্যবস্থার কোন মানবিক মূল্য থাকেনা এবং মনুষত্ত্ব্যের দাবী অসার হয়ে যায়।




ইমাম হায়াত বলেন, মানবতা সব প্রকৃত ধর্মের অলংঘনীয় মূল্যবোধ যা রাজনৈতিক সীমান্ত-ভাষা-গোত্র- বর্ণের উর্ধ্বে এক অখন্ড বিবেকবোধ এবং যে কোন অজুহাতেই মানবতার সংকটে নির্বিকার থাকা অমানুষিকতা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সীমান্তের কারণে মানবিক ভ্রাতৃত্ত্ব ও দায়িত্ত্ব অস্বীকার করা মানবতাই অস্বীকার করা।

 রোহিঙ্গা সহ দুনিয়ায় সব জায়গায় হত্যাকান্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিশ্ব বিবেককে সোচ্চার হওয়ার জন্য ইমাম হায়াত আবেদন জানান। তিনি বলেন, জীবন ও মানবতার বিরূদ্ধে কোন ধর্ম হয় না, ধর্মের ছদ্মনামে অধর্ম হয়। তিনি আরও বলেন, রাজনীতির লক্ষ্য হতে হবে একমাত্র মানবতা এবং যে নমেই হোক মানবতা বিরোধী সকল রাজনীতিই পরিত্যাজ্য অপরাজনীতি।

 ইমাম হায়াত দুনিয়াব্যাপী চলমান ক্রমবর্ধমান খুন-সন্ত্রাস-অরাজকতা-যুদ্ধ বিগ্রহ-ধ্বংসযজ্ঞের পিছনে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা ও মূল্যবোধের বিলুপ্তি এবং বিভিন্ন ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদের ভয়াবহ রাজনৈতিক উত্থানকে দায়ী করে সকলকে অভিলম্বে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদের সাথে ভাষা-গোত্র-ভৌগলিকতা-বর্ণ কেন্দ্রিক বিভিন্ন উগ্র জাতীয়তাবাদের প্রাদুর্ভাব ও তাদের একক গোষ্ঠিবাদী অপরাজনীতিও মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামান্তর।

 ইমাম হায়াত মানবতার মুক্তি সাধনায় শান্তিময় নিরাপদ জীবন ও বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রচলিত একক গোষ্ঠিবাদী অপরাজনীতির কবলমুক্ত হয়ে সর্বজনীন মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধর্মের মূল্যবোধ ও মানবতায় বিশ্বাসী সব মানুষকে অবিলম্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।



এছাড়াও আন্তর্জাতিক  শরণার্থী বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রামরুর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সি আর আবরার এক বিবৃতিতে বলছিলেন মিয়ানমারকে যতটা চাপ দেয়া দরকার কিন্তু বিশ্ব শান্তি সংস্থা গুলো  ততটা চাপ দিচ্ছে না। সি আর আরো বলেন শুধুমাত্র সে কারণেই  রোহিঙ্গা হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। নিকট অতীতে চীনের কিছুটা চাপ ছিল এখন সেটাও নেই বলে  মি. আবরার দাবি করেন। এছাড়াও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের রোহিঙ্গা বিষয়ক কমিশনে ইস্যুতে খুব একটা কাজ হবে না বলে বিভিন্ন বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

মি. আবরার বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সনদে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছেন। তিনি বলেন সে কারণে হলেও রোহিঙ্গাদের মানবিক  আশ্রয় দিতে পারে বাংলাদেশ। সি আর আবরার বলেন "লোকগুলো যখন জীবন বাঁচাতে আরেক দেশের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছে, তখন শুধু বাংলাদেশ না সব দেশের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করার বিষয় রয়েছে। তিনি বলেন এটি সবার জন্য  একটা মানবিক সমস্যা"। এই জন্য আমাদের সবার উচিত মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলামানদের পাশে দাঁড়ানো।

শেয়ার করুন