Wednesday, November 2, 2016

ফেনী ভিক্টোরিয়া কলেজ জামায়াত-শিবিরের আখড়া



বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পার্শ্ববর্তী জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম নকল করে ২০১৩ সালে ফেনী শহরের রেলগেইট সংলগ্ন ভাড়া বাড়ীতে প্রতিষ্ঠিত হয় ফেনী ভিক্টোরিয়া কলেজ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে কলেজটির রিরুদ্ধে। কলেজ উপযোগী নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকা, বর্তমান ভাড়া বাডির ক্যম্পাসটিতে পর্যাপ্ত খেলাধুলার মাঠ না থাকা, পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশের অভাব, মানসম্মত শিক্ষক না থাকা, ছাত্র-ছাত্রী থেকে মাত্রাতিরিক্ত ফি আদায়সহ রয়েছে অনেক অভিযোগ। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে গুরুতর হয়ে ওঠেছে জামায়াত-শিবির সম্পৃক্ততা। পাশাপাশি ভুয়া ডিগ্রীধারী এবং ইন্টারমিডিয়েট পাস শিক্ষক থাকায় প্রতিষ্ঠানটির মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ মতে, কলেজের পরিচালক ও শিক্ষকদের অধিকাংশই প্রত্যক্ষভাবে জামায়াত-শিবির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফারুক আহমেদ বক্তার মুন্সি শেখ শহিদুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে হিসাববিজ্ঞান প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। নিজেকে সরকার দলীয় সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও মূলত তিনি একসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার ছিলেন। 

তিনি বর্তমানে ফেনী জেলা জামায়াতের নিরব বুদ্ধিজীবী মহলের অন্তর্ভুক্ত এবং অর্থের অন্যতম যোগান দাতা। কলেজের সেক্রেটারী হিসাবে আছেন ফেনী কলেজ শিবিরের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক। প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন ফেনী শহর শিবিরের সভাপতি ছিলেন, একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর শাহওয়ালি উল্ল্যাহ মানিক ছিলেন ফেনী সদর শিবিরের সভাপতি। ফেনী কলেজ শিবিরের আরেক সভাপতি গোলাম মাহবুব নাইম প্রতিষ্ঠানটিতে প্রভাবশালী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সবচাইতে চঞ্চল্যকর যে তথ্য পাওয়া গেছে তা হচ্ছে অযোগ্যরা রয়েছে পাঠদানের দায়িত্বে। শুধু কম্য যোগ্যতার শিক্ষক নয়, ভুয়া ডিগ্রীধারী এবং ইন্টারমিডিয়েট পাস করাও এ কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এসএম মাইন উদ্দিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ইসলামী ষ্টাডিজ বিষয়ে মাষ্টার্স পাস হলেও নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখেন এম.বিএ। অনার্স ডিগ্রীও নেই তার। কলেজে এমবিএ যে সার্টিফিকেট জমা দেন, সেটি ভূয়া সার্টিফিকেট বলে জানা যায়। কলেজের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর ও ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন শাহ ওয়ালি উল্যাহ মানিক। অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি ইন্টারমিডিয়েট পাশ। এরপরও তিনি ভুয়া বি.এ পাসের সার্টিফিকেট কলেজে জমা দিয়েছেন। এদিকে ইন্টারমিডিয়েট কলেজে সরকারী বিধি অনুযায়ী উপাধ্যক্ষের কোন পদ না থাকলেও উক্ত দুজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও একাডেমীক কো-অর্ডিনেটর নামে দু’টি উদ্ভট পদে আসীন রয়েছে। কোন নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে এদের নিয়োগ হয় নাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিষয়ের প্রাক্তন এক শিক্ষক বলেন, শুধুমাত্র কলেজের পরিচালক হওয়ার সুবাদে উক্ত ব্যক্তিদ্বয় সরকারী নিয়ম কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কর্মরত আছেন। শুধু তাই নয় তাদের মতের বাইরে যে শিক্ষক যায়, বিভিন্ন অনৈতিক অভিযোগ এনে তাদেরকে চাকুরীচ্যুত করা হয়।

কোন শিক্ষক ন্যায় বিচার পান না। এখানে সভাপতি সেক্রেটারী যা বলেন সেটাই আইন। কলেজ পরিচালনা কমিটি নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। অভিযোগ মতে, চলতি বছরের জুলাইতে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। অথচ এখনো নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেই। শিক্ষা বোর্ডের কোনরূপ অনুমোদন ব্যতিরেকেই কলেজ চালাচ্ছে পুরাতন কমিটি। বিগত কমিটিও গঠিত হয়েছিলো শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম নীতি না মেনেই। সরকারী বিধি অনুযায়ী অভিভাবক প্রতিনিধি ও শিক্ষক প্রতিনিধি করা হয়নি। এ বিষয় ফেনী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো ওয়ালী উল্যাহ’র সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কমিটির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কমিটি গঠনে অবশ্যই সরকারী রুলস মানতে হবে। একটি কমিটি মেয়াদ পূর্ণ করার তিন মাস আগেই নতুন কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক। কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া এবং অযোগ্য শিক্ষক প্রসঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ফেনী ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ এবং ফেনী সরকারী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর নুরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। 
সূত্র: দৈনিক দূর্বার

শেয়ার করুন