Thursday, January 26, 2017

সংসদে সাংবাদিক ইকবাল সোবহানের সমালোচনায় শামীম ওসমান



বিশেষ প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরীর কঠোর সমালোচনা করেছেন নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। মুক্তিযুদ্ধের সময় ইকবাল সোবহানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সরকার দলীয় সদস্য শামীম ওসমান বলেন, “আমাদের দলের লেবাস পরে আছেন একজন। তিনি সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেন, উপদেষ্টাও হন। উনার পত্রিকায় কয়েক দিন আগে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের নামে লেখা হলো। বলা হলো, ‘উই আর ড্রাগ ডিলার।’ অবাক হলাম। বলে কী এই লোকটা? কে এই লোকটা? উনার ব্যাক গ্রাউন্ড কী? ব্যাকগ্রাউন্ড দেখলাম, ১৯৭১ সালে সলিমুল্লাহ সাহেব স্পোর্টস রিপোর্টার ছিলেন। তারপর উনি মুক্তিযুদ্ধে চলে যান। তখন এই ভদ্রলোক এসে তার স্থলাভিষিক্ত হন। একাত্তর সালের ৫ মে উনি জয়েন করেন।” তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭৮ সালে নেত্রী তখনও দেশে ফেরেননি। আমরা তখন তরুণ। রাজপথে জিয়াউর রহমানের গাড়ি আটকে দিয়েছি। ফ্ল্যাগ নিয়ে তাকে নারায়ণগঞ্জ ঢুকতে দেওয়া হয়নি। মামলা খেয়েছি, কিন্তু ভয় পাইনি।

প্রচণ্ড মার খেয়েছি। কষ্ট লাগে, আমরা যখন এমন কাজ করেছি তখন এই ভদ্রলোক কোথায় ছিলেন। তিনি আমাদের কৃপায় টিকে আছেন।’ ইকবাল সোবহানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করে তিনি বলেন, “গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যারা সই করেছিলেন, ইনি তাদের মধ্যে অন্যতম। জামায়াত প্রকাশিত ‘গোলাম আযমের সংগ্রামী জীবন’ বইয়ে একটা লেখা আছে। সংগ্রাম পত্রিকায় স্বাক্ষরের কপিও আছে। কে এই লোক? তিনি আমাদের মধ্যে ঘোরাফেরা করেন, প্রগতিশীল সাজেন। আর সংসদ সদস্যদের মাদক সম্রাট বানানোর চেষ্টা করেন। উনার নাম ইকবাল সোবহান চৌধুরী।” নারায়ণগঞ্জের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমাদের এখানকার কারও অধিকার নেই নেত্রীকে কালিমালিপ্ত করার। আমি যদি কিছু করে থাকি, কোনও এমপি যদি কিছু করে থাকেন, তদন্ত করা হোক। আমাদের স্যাক করা হোক। সংসদ থেকে বের করে দেওয়া হোক। আমার বিরুদ্ধে বহু লেখ হয়েছে। আমি এদের কাছে মাথানত করার লোক নই। ড্রাগ ডিলার তো দূরের কথা, ইসলাম ধর্মে যা কিছু নিষিদ্ধ তার একটাতেও যদি সম্পৃক্ত থাকি, তাহলে এই সংসদ থেকে কানে ধরে গলায় জুতার মালা দিয়ে বেরিয়ে যাব। আর যদি প্রমাণ করতে না পারে তাহলে তাদের কিছু হবে না। কারণ ওদের সাহস বেড়ে গেছে।

উনারা শেখ হাসিনাকে নিয়ে কিছু বললেও কিছু হয় না।’ সম্প্রতি একজন সম্পাদকের সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে শামীম ওসমান বলেন, ‘সেদিন একজন ভালো সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলছিলাম। পত্রিকাগুলো এসব কথা কিভাবে লেখে তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম। ওই সম্পাদকের জবাবে আমি নিজেই লজ্জিত হয়েছি। উনিবললেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন তিনি প্রথম আলো-ডেইলি স্টার পড়েন না। তাহলে আপনার দলের নেতারা কী করে তাদের পত্রিকায় কেক কাটতে যান। কী করে পাঠক ফোরামের উপদেষ্টা হন। এটা চিন্তার বিষয়।’প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার পর প্রথম আলো লিখলো, আমি যুক্ত। আমি নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। তথ্য সচিবকে লিখেছিলাম। ৩৮ মাস বসেছিলাম। আজ রায় হয়েছে। উনারা কী বলবেন। শেখ হাসিনার প্রশ্নে যারা বিন্দুমাত্র আপস করেন না তাদের চরিত্র হনন হচ্ছে। শুনেছি, ১০০ এমপির তালিকা করা হয়েছে। এমন অবস্থা করবে যাতে তারা লোকের সামনে যেতে না পারে। দলের ভেতরেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। খন্দকার মোশতাকও তো এই দলের লোক ছিলো। ডেইল স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম টেলিভিশনে স্বীকার করেছেন, উনার লেখার কারণে আমার নেত্রীকে ১১ মাস জেলে থাকতে হয়েছিলো। প্রথম আলোর আলপিনে নবীকে কটাক্ষ করা হয়েছে। খতিবের কাছে ক্ষমা চাইলেন। মন্ত্রী-এমপিদের চরিত্র হনন করছেন।

এরা কারা? উলফার টাকায় প্রথম আলো প্রতিষ্ঠিত। নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে। বিদেশে মিটিং করছে। শকুনিরা গরম নিশ্বাস ফেলছে।’ সংসদ সদস্যদের অধিকার নিয়ে স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘আপনি আমাদের প্রটেকশন দেন, না হয় ছেড়ে দেন। সাধারণ মানুষ করে দেন, যাতে আমি কিছু করলে দল ও নেত্রীর ওপর না পড়ে। তারপরে দেখাবো, সাধারণ মানুষের ক্ষমতা কতটুকু। লক্ষ লোক নিয়ে ওদের অফিসের সামনে আসতে আমাদের বেশি সময় লাগবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘পত্রপত্রিকার অধিকার ক্ষুন্নের কোনও  প্রমাণ সংসদ সদস্যরা দিলে আপনি (স্পিকার) তাদেরকে তলব করেন। তলব করে জিজ্ঞাসা করেন, আমার সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তুমি যে লিখেছো, তোমার প্রমাণ কী। প্রমাণ পেলে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। না পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। ওরা কিন্তু খেলায় নেমে গেছে। আইন করার সময় এসেছে। আইন করেন।’ ষড়যন্ত্রের উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, “ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। নেত্রীর বিমানের ইঞ্জিন বিকল হয়, লিটন মারা যায়, সবার বিরুদ্ধে লেখা হয়। পরিস্থিতি কী এমন হয়েছে যে কেউ সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে বলবে, ‘প্রিয় দেশবাসী, এভাবে দেশ চলতে পারে না...।’ যদি বলতে চায়, তাদের বলবো, আমরা অপপ্রচারে ভয় পাই না।”

শেয়ার করুন