Wednesday, March 15, 2017

ফেনী শহরে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের উদ্যোগে ঈমানীয়ত ইনসানিয়াত সুরক্ষা সমাবেশ ও সালাতু সালাম মাহফিল





ফেনী প্রতিনিধি:
ফেনী শহরে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের উদ্যোগে ঈমানীয়ত ইনসানিয়াত সুরক্ষা সমাবেশ ও সালাতু সালাম মাহফিল অনুষ্ঠিত। বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সার্বজনীন মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থার দিকদর্শন বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব এর প্রবর্তক- ইমাম হায়াত এর দিক নির্দেশনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের কেন্দ্রী নেতা আল্লামা আরেফ সারতাজ, আল্লামা খাজা নাজিমুদ্দিন রাশেদ। এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে  আলেম ওলামা, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকদবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ফেনী জেলা বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা গোলাম সরওয়ার এর পরিচালনায় উক্ত অনুষ্ঠান শুরু হয়।
 
 প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেনঃ সুন্নী দাবী করার  ভিত্তি একমাত্র ঈমান তথা সব বাতেল থেকে মুক্ত থেকে দ্বীনের পূর্ণাংগতায় বিশ্বাস তথা পবিত্র ‍কলেমার পূর্ণাংগ বিশ্বস্ততায় একমাত্র প্রাণাধিক প্রিয়নবীর হয়ে যাওয়া ।

সব কিছুর উর্ধ্বে মহান প্রিয়নবীর  প্রেমই দয়াময় আল্লাহতাআলার প্রেম ও সর্ম্পক তথা ইমানের প্রাণ এবং মহামহিম পবিত্র আহলে বায়েত-মহামান্য খোলাফায়ে-রাশেদীন মকবুল সাহাবায়ে-কেরাম-সত্যের ইমামবৃন্দ-আওলিয়াকেরামের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ও সর্ম্পক প্রিয়নবীর আপনত্ত্বেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ যাদের খেলাফ ঈমান দ্বীনের প্রকৃতধারা থেকেই বিচ্ছিন্নতা ।


ইসলামের ছদ্মবেশী বাতেল ফেরকা যেমন ঈমান হানিকর বাতেল ,তেমনি বস্তুবাদী মতবাদ ও ঈমান পরিপন্থী বাতেল । উভয় বাতেলের তৈরী সব ব্যবস্থাই তাদের অসৎ স্বার্থে ঈমান-দ্বীন ও মানবতার বিরুদ্ধে সৃষ্ট । বাতেল ফেরকা ও বস্তুবাদী মতবাদ ও তাদের সৃষ্ট ব্যবস্থা ও কাঠামো কবুল করা হলে মহান শাহাদাতে কারবালার আমানত ও নির্দেশ খেয়ানত হবে তথা ঈমানের পবিত্র কলেমার চেতনার বিপরীত হবে এবং ঈমানী অস্তিত্ত্ব বিণাশ হবে ।


সব বাতেল থেকে মুক্ত না হয়ে তথা এক বাতেল থেকে মুক্ত থেকেও আবার অন্য বাতেলের সাথে মিশে যাওয়া ও তাদের ব্যবস্থা সমথর্ন করা এবং দ্বীনের পূর্ণাংগ ধারায় বিশ্বস্ত না হয়ে কেবল বাহ্যিক কিছু বিচ্ছিন্ন আমল প্রদর্শন সুন্নীয়ত নয় । নিকট অতীতে সব বাতেল ও তাদের ব্যবস্থা প্রত্যাখান না করে এবং দ্বীনের পূর্ণাংগ  ধারায় বিশ্বস্ততা অটলতা হারিয়েই আমরা সুন্নী মিল্লাত আজ ধ্বংসস্ত্তপ, পরাজিত ও সর্বহারা ।পূর্ণাংগতা বলতে ঈমনের ভিত্তিতে দ্বীনের আত্নিক-ব্যক্তিক-আধ্যাত্নিক-রাজনৈতিক সব দিকে নিজেদের পথে থাকা এবং ভাই-বোন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, যার ব্যতিক্রম আহলে সুন্নাতের পথ নয় বরং ধ্বংসাত্নক।

প্রাকৃতিক শক্তির পর রাজনীতি বা রাজনৈতিক শক্তি ও ব্যবস্থার মাধ্যমেই জীবন ও দুনিয়া পরিচালিত হয়। দুনিয়াব্যাপী চলমান রাজনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামো তথা রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থা বাতেল ফেরকা,বস্তুবাদী মতবাদ ও বিভিন্ন ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদের তৈরি । অরাজনৈতিক হওয়া যেমন নিজেদের পথ বিসর্জন দিয়ে এ তিন বাতেল জালেম অপশক্তির কাছে জীবন ও দুনিয়া তুলে দিয়ে তাদের সব মেনে নেয়া  তেমনি তাদের ভ্রান্ত রাজনীতির অংশ হওয়াও তাদের মধ্যে বিলীন হয়ে অস্তিত্ত্ব বিসর্জন দেয়া ।

ঈমানের কালেমার ভিত্তিতে আত্নার রুপরেখা একমাত্র রেসালাত কেন্দ্রিক তাওহীদ ভিত্তিক আত্নসত্ত্বা ও জীবন চেতনা ,যার বিপরীত হচ্ছে নাস্তিক্যউদ্ভূত বস্তুবাদী জীবন চেতনা । আত্না ও জীবনের সব দিকে ঈমানের পবিত্র কালেমার ভিত্তিতে দ্বীনের পূণাংগ রুপরেখা ও দিকদর্শন রয়েছে যার ব্যতিক্রম আত্নঘাতী এবং বাতেল জলেম অপশক্তির আঁধার গহ্বরে নিমজ্জিত হয়ে যাওয়া । রাষ্ট্রকাঠামো ও বিশ্বকাঠামো জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, পবিত্র কালেমার আলোকধারায় দ্বীনের নির্দেশিত দিকদর্শনে যার রুপরেখা খেলাফাত তথা খেলাফাতে ইনসানিয়াত বা দ্বীনী মূল্যবোধ ভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক সার্বজনীন মানবিক রাষ্ট্র ও বিশ্ব, অর্থাৎ রাষ্ট্র ও দুনিয়া সবার সব মানুষের,একক ধর্ম-জাতি-গোত্র-ভাষা-শ্রেণী-বর্ণ ভিত্তিক একক গোষ্ঠি ভিত্তিক নয়, সবার জীবন-স্বাধীনতা-অধিকার-নিরাপত্তা-কল্যাণ ভিত্তিক, কারন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম রাহমাতাল্লিল আলামিন তথা সবার কল্যাণ ও মুক্তির উৎস।


ঈমান-দ্বীন-মিল্লাত ও মানবতার বিরুদ্ধে তিন বাতেলের যুদ্ধের মুখে আমরা দ্বীনের মূলধারা সুন্নীগন নিজেদের অস্তিত্ত্ব রক্ষায় তথা দ্বীনের বিশুদ্ধ ও পূর্ণাংগ ধারার সুরক্ষায় এবং নিজেদের ও সমগ্র মানবতার মুক্তির সাধনায় সময়ের সব চেয়ে জরুরি ঈমানী দায়িত্ব হিসেবে সর্বত্র বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।

 প্রেমময় রহমতময় পবিত্র সালাতু সালামের মাধ্যমে শোকরিয়া ও দোয়া মুনাজাত সুসম্পন্ন হয়।

শেয়ার করুন