Monday, April 24, 2017

বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের উদ্যোগে চট্রগ্রামে মহান ঈদে মেরাজুন্নবী পালিত


চট্রগ্রাম প্রতিনিধি:
ঈদে মেরাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদ্যাপন উপলক্ষে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের সমাবেশ

দুনিয়াব্যাপী রূদ্ধ সত্য ও বিপন্ন জীবনের মুক্তি সাধনায় প্রাণাধিক প্রিয়নবী প্রদত্ত
সর্বজনীন মানবিক সমাজ-রাষ্ট্র-বিশ্বব্যবস্থার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হউন-আল্লামা ইমাম হায়াত

দয়াময় আল্লাহতাআলা স্থান কালের উর্ধ্বে মানব জ্ঞানের অতীত অচিন্তনীয় উর্ধ্ব জগতে তাঁর একান্ত সান্নিধ্যে দূরত্ত্বহীন নৈকট্যে উপনীত করে তাঁর প্রিয়তম মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাক্ষাত দানের মাধ্যমে সর্বসৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর প্রথম অতুলনীয় মহাপ্রকাশের চির গৌরবময় মহাউপলক্ষ পবিত্র ঈদে মেরাজ শরীফ।

সত্য ও জীবনের উপলব্ধির জন্য অতি অপরিহর্য্য মৌলিক বিষয় ঈদে মেরাজ শরীফের মহান তাৎপর্য তুলে ধরার লক্ষ্যে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের উদ্যোগে আজ চট্টগ্রাম মুসলিম হলে এক ঈদে মেরাজ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তফসিরে মাশাহেদুল ঈমানের প্রণেতা ও পবিত্র বোখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ প্রণেতা, বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা, ওস্তাজুল ওলামা, শায়খুল হাদিস, ইমামে আহলে সুন্নাত, পীরে হাক্কানী, ওলীয়ে রাব্বানী-হজরত আল্লামা ছৈয়দ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ। শত শত বিশিষ্ট পীর মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম ও শিক্ষাবিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ বিশাল সমাবেশে সভাপতি ও বিশেষ দিকনির্দেশনা মূলক প্রধান বক্তা হিসেবে মহান মেরাজ শরীফের মহিমা ও দিশা ব্যাখ্যা করে এবং এ মহান উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ছুটির আবেদন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন এর প্রতিষ্ঠাতা এবং আহলে সুন্নাতের নিদের্শিত জীবন ব্যবস্থার মানবিক রূপরেখা খেলাফতে ইনসানিয়াত তথা সর্বজনীন মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও মুক্ত মানবতার অখন্ড বিশ্বব্যবস্থার দিকদর্শন বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক- ¬¬¬হজরত ইমাম হায়াত। বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা আবেদ শাহ মোজাদ্দেদী (রঃ) এর সাহেবজাদা পীর আল্লামা সৈয়দ জাহান শাহ, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা আজিজুল হক শেরে বাংলা (রঃ) এর সাহেবজাদা আল্লামা আমিনুল হক সাহেব, মুফতী আমিন মোজাদ্দেদী (অধ্যক্ষ- পশ্চিম এলাহাবাদ সিনিয়র কামিল মাদ্রসা) অধ্যাপক আল্লামা ডঃ আতাউর রহমান মিয়াজী (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক আল্লামা ডঃ নুরুন্নবী (এশিয়ান ইউনিভার্সিটি, ঢাকা)। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা আল্লামা আরেফ সারতাজ, অধ্যাপক আল্লামা ডঃ কাওছার আমীন, আল্লামা আবরার চিস্তি, আল্লামা মোর্শেদ শাহ, আল্লামা খাজা নাজমুদ্দিন, আল্লামা জাকির আহসান, আল্লামা রায়হান রাহবার, আল্লামা এমদাদ সায়ীফ, আল্লামা হাফেজ ইলিয়াছ শাহ, আল্লামা শেখ নয়ীমুদ্দিন, আল্লামা আওয়াল কাদেরী।


মহান মেরাজ শরীফ দয়াময় আল্লাহতাআলার সাথে আমাদের মহান প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মোবারক প্রত্যক্ষ সাক্ষাত উল্লেখ করে ইমাম হায়াত বলেন, মহান মেরাজ শরীফ প্রিয়নবীর নিকট স্বয়ং আল্লাহতাআলার মহিমাময় প্রত্যক্ষ প্রকাশ এবং প্রিয়নবীর মাধ্যমে সমগ্র সৃষ্টির নিকট রহমতময় পরোক্ষ প্রকাশ। আল্লাহতাআলা তাঁর অসীম ক্ষমতায় মহান প্রিয়নবীকে স্থান কালের উর্ধ্বে তাঁর পরম নৈকট্যে পৌঁছিয়ে তাঁর পবিত্র মহাসত্ত্বার নূর ও তাজাল্লিতে মিলিত করে সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য সত্যের আলো, জীবনের কেন্দ্র এবং সর্বজ্ঞান, সর্বগুণ ও সর্বকল্যাণের উৎসরূপে প্রকাশ করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইমাম হায়াত বলেন, দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তাঁর মহান হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ সরাসরি মহাসাক্ষাত মহামিলন আমরা সকল মুমিনের জন্য আত্মার প্রাণপ্রদীপ, হৃদয় ও জীবনের অতুলনীয় মহাউৎসব, দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেম ও নৈকট্য সাধনার সর্বোচ্চ পাথেয়, সত্য ও মুক্তির মহাদিকদর্শন। সঠিক লক্ষ্য ও দিশায় ঈদে মেরাজ শরীফ উদযাপনের মধ্যে নিহিত জীবন ও জগতের সর্বস্তরে সত্য ও মানবতার প্রতিষ্ঠা এবং সমগ্র মানবমন্ডলীর দোজাহানের সার্বিক কল্যাণ।

ইমাম হায়াত বলেন, অনেকে রমজান ও কোরবাণীর ঈদ ছাড়া আর কোন উপলক্ষ শোকরিয়া বা ঈদ হতে পারেনা মনে করেন যা অজ্ঞতা ও ভুল ধারণা মাত্র, কারণ কোরআনুল করীম ও হাদীস শরীফে আরও অনেক উপলক্ষকে পূর্বাপর সবার জন্য ঈদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যা পালনের পদ্ধতি ভিন্ন(সুরাঃ মায়েদা আয়াত শরীফঃ ১১৪)। আল্লাহতাআলার সকল অনুগ্রহ ও রহমত প্রাপ্তিতে শোকরিয়া ও খুশী তথা ঈদ পালন মহাকল্যাণকর হিসেবে উল্লেখ করে তাকিদ রয়েছে(সুরাঃ ইউনুস, আয়াত শরীফঃ ৫৮)।


ইমাম হায়াত বলেন, জীবনের জন্য আল্লাহতাআলার সর্বোচ্চ পরম দান সব ঈদের মূল ঈদ ঈদে আজম দুনিয়ায় প্রিয়নবীর শুভাগমন যা না হলে আমরা আল্লাহতাআলাকেই পেতাম না। লাইলাতুল কদর তথা কোরআনুল করীম নাজিল হওয়ার মাধ্যমে শানে রেসালাতের প্রকাশ ও দ্বীনে হকের সূর্যোদয়ের ঈদ হিসেবেই রমজানের ঈদ পালন হয় যা ঈদুল ফিতর হিসেবে মানবতার দিকে লক্ষ্য রেখে নামকরণ হয়েছে।

ইমাম হায়াত বলেন, মেরাজ শরীফ মহান প্রিয়নবীর সাথে প্রত্যক্ষ সাক্ষাতের মাধ্যমে আল্লাহতাআলার স্বয়ং প্রকাশ যা সমগ্র সৃষ্টির জন্য অসীম রহমত ও দিশার উৎস, যে শোকরিয়া না হলে নাফরমানী হবে। তবে রমজান ও কোরবাণীর ঈদের মত ঈদে আজম ও ঈদে মেরাজ হুকুমগত বিধিবদ্ধ নির্ধারিত পদ্ধতিগত ঈদ নয়, ঈমানী হৃদয়ের ঈদ-ঈমানী প্রাণের ঈদ-অসীম প্রেমের ঈদ, যার সাথে অন্য কোন আমলগত বিষয়ের তুলনা চলেনা, যা অন্য সবকিছুর উৎস।

ইমাম হায়াত বলেন, মহামহিম পবিত্র আহলে বায়েত-মহামান্য খোলাফায়ে রাশেদীন-মকবুল সাহাবায়ে কেরাম-সত্যের ইমামবৃন্দ ও আওলিয়া কেরাম সবাই সব যুগে তাঁদের সময়ের প্রয়োজন মোতাবেক সবকিছু পালন করেছেন এবং তাঁদের সবার সমগ্র জিন্দেগীই এসব মহান উপলক্ষের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নেই উৎসর্গীকৃত। দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আত্মার বন্ধন ঈমানী উপলক্ষ সমূহই ঈমান-জীবন ও দ্বীনের প্রাণপ্রবাহ যা উপেক্ষিত হলে আত্মা ও দ্বীন মৃত হয়ে যায়।

 ইমাম হায়াত বলেন,  দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেমের সাধনায়, জীবনসত্যের আলোকময় বিকাশের লক্ষ্যে, মিথ্যা-আঁধার-মূর্খতা-বিণাশের কবল থেকে মানবতার মুক্তির অভিযাত্রায়, সত্য ও মানবতার ভিত্তিতে শান্তিময় আলোকিত দুনিয়ার প্রতিষ্ঠায় ঈদে মেরাজ শরীফ উদ্যাপনের এ মোবারক ঈমানী কর্মসূচীকে এগিয়ে নেয়া আমরা মুমিন ভাইবোন সবার ঈমানী দায়িত্ত্ব। মহান মোবারক মেরাজ শরীফের রহমত ও আলোকধারায় যুক্ত থাকতে হলে আমাদের অবশ্যই ঈদে মেরাজ কর্মসূচীতে যুক্ত থাকতে হবে এবং ঈদে মেরাজ শরীফের শিক্ষা ও মর্মধারা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

       দুনিয়াব্যাপী মিথ্যা ও অবিচারের ধারক নানাবিধ অপশক্তির গ্রাসে রূদ্ধ সত্য ও বিপন্ন জীবনের মুক্তি সাধনায় মহান ঈদে মেরাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা ও নির্দেশনার বাস্তবায়নে প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদত্ত সর্বজনীন মানবিক সমাজ-রাষ্ট্র-বিশ্বব্যবস্থার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আল্লামা ইমাম হায়াত সত্য ও মানবতায় বিশ্বাসী সকল মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন