Friday, May 19, 2017

মুশফিকের বাবার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে স্কুল প্রতিষ্ঠার অভিযোগ



বগুড়ায় জাতীয় ক্রিকেট দলের (টেস্ট) অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদ তারার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে স্কুল প্রতিষ্ঠার অভিযোগ উঠেছে। ৪৭ বছরের প্রাচীন স্বনামধন্য এমপিওভুক্ত মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, ভবন ও আসবাবপত্র ব্যবহার করে ‘বর্ণালি বিদ্যায়তন’ নামে ব্যক্তিগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এ নিয়ে দ্বন্দে¡র জের ধরেই স্কুলছাত্র মাসুক খুন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সচেতন জনগণ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন; অন্যথায় আরও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

বগুড়া শহরতলির মাটিডালি এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘বর্ণালি বিদ্যায়তন’ নামে একটি ব্যক্তিগত প্রাথমিক বিদ্যালয়। কয়েক বছর আগে স্থাপিত এ বিদ্যালয়ে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করে। এতে মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন, ক্যাম্পাস, বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের দেয়ালে লাগানো বর্ণালি বিদ্যায়তনে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যানারে লেখা রয়েছে- ‘বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের পৃষ্ঠপোষকতায় ও সুদক্ষ ম্যানেজিং কমিটি পরিচালিত।’ মাহবুব হামিদ তারা দুই প্রতিষ্ঠানেরই পরিচালনা কমিটির সভাপতি।

শনিবার রাতে মাটিডালি হাজিপাড়ায় খুন হওয়া নবম শ্রেণীর ছাত্র মাসুক ফেরদৌসের বাবা জাসদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক এমদাদ বলেন, মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে ৫ বছর ধরে মুশফিকুর রহিমের পৃষ্ঠপোষকতায় ও তার বাবা মাহবুব হামিদ তারার পরিচালনায় নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাইভেট প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে। এমপিওভুক্ত মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ে আগে তৃতীয় শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান হতো। মাহবুব হামিদ তারা অবৈধভাবে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হয়ে একই ক্যাম্পাসে ব্যক্তিগতভাবে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। ফলে মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ে এখন ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়।

মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে বর্ণালি বিদ্যায়তন চালানো হলেও এখানে অর্জিত টাকা তার ব্যক্তিগত হিসাবে রাখা হয়। একই এলাকার অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বলেন, বর্ণালি বিদ্যায়তন নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাহবুব হামিদ তারা ১২ এপ্রিল অবৈধ পন্থায় মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হয়েছেন। এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলন এবং রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অধিক লাভের আশায় বর্ণালি বিদ্যায়তনে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মাহবুব হামিদ তারা সাংবাদিকদের বলেন, নিয়মনীতি মেনেই বর্ণালি বিদ্যায়তন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করা হয়নি। মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাল মিয়া জানান, তিনি ২০১৪ সালে দায়িত্ব পেয়েছেন। আগের প্রধান শিক্ষক দুলাল হোসেন একই ক্যাম্পাসে কীভাবে বর্ণালি বিদ্যায়তন করেছেন, তা তিনি বলতে পারবেন না।

তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২টা এবং হাইস্কুল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে। দুটি প্রতিষ্ঠানের আলাদা ম্যানেজিং কমিটি এবং ব্যাংক হিসাব আছে। দুটি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করেন, মাহবুব হামিদ তারা। বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র জানান, বিঘ্ন সৃষ্টি না করলে একই ক্যাম্পাসে দুই নামে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে। তবে পরের প্রতিষ্ঠানটি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কিনা সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন