Wednesday, May 10, 2017

নামি কলেজে চাহিদা বেশি




আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে শিক্ষার্থীরা অনলাইন এবং এসএমএসে ভর্তির আবেদন পাঠানো শুরু করে। প্রথম দিনের প্রথম চার ঘণ্টায় অর্থাৎ দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৪০ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বিভিন্ন কলেজে আবেদন করেছেন। এরমধ্যে অনলাইনে ৩২ হাজার ৬৯০ এবং এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে ৮ হাজার ২৮০ জন শিক্ষার্থী। প্রতি মিনিটে এ সংখ্যা বাড়ছে। ঢাকার নামিদামি কলেজেই প্রথম দিনে ভর্তির আবেদন বেশি পড়েছে বলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। তবে নামিদামি কলেজে কী পরিমাণ আবেদন প্রথম দিনে পড়েছে তার সঠিক সংখ্যা উল্লেখ করেনি বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

এর আগে বেলা ১২টায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলন কক্ষে ভর্তি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। এ সময় মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরসহ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষাবোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়ায় কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ইন্টারনেট অথবা মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে সঠিকভাবে তথ্য দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই আবেদন করতে পারবে। তিনি জানান, অনলাইনে আবেদনের ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবেন। ভর্তির সময় আগে যে কষ্ট হতো, টাকা খরচ হতো এখন আর তা হবে না বলেও জানান সচিব। সরকারের ডিজিটাল সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এটা একটি অন্যতম উদাহরণ। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মকে ভালোভাবে গড়ে তোলার স্বার্থে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ে সে বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর। পরীক্ষায় অসাধু উপায় অবলম্বনের কোনো সুযোগ থাকবে না। আমরা চাই আগামী প্রজন্ম ভালোভাবে গড়ে উঠুক। শিক্ষার্থীরা প্রকৃতই জ্ঞান অর্জন করে ভালো গ্রেড লাভ করুক।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, এবার একাদশে ভর্তি পদ্ধতি এমনভাবে করা হয়েছে যে কলেজ বা নেতা কেউই কোনো খোঁজ পাবে না। অনলাইন ও মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর ফল প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত ভর্তির তালিকা পাঠানো হবে। অধ্যাপক কায়কোবাদ আরো বলেন, গত বছর আমাদের কাছে অনেক অভিযোগ এসেছিল মোবাইলে আবেদনের ক্ষেত্রে পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের একপ্রকার জোড়পূর্বক তাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে বাধ্য করে। তবে এবার আর সে সুযোগ থাকছে না। কারণ এবার এমন কিছু নতুন বিষয় সংযোজন করা হয়েছে যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জানার সুযোগ নেই। ফলে কলেজ অথবা রাজনৈতিক নেতা শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারবে না। আর কলেজগুলোও কোনোভাবেই শিক্ষার্থী ধরে রাখার ফাঁদ তৈরি করতে পারবে না।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. মো. আশফাকুস সালেহীন  বলেন, দুপুর ২টা থেকে ভর্তির আবেদন নেয়া শুরু হয়েছে। প্রথম আধ ঘণ্টায় দুই হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আর চার ঘণ্টায় তা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর আগে গত রোববার জারি করা ভর্তি নীতিমালা বলা হয়েছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে। অনলাইনের (িি.িীরপষধংংধফসরংংরড়হ.মড়া.নফ) পাশাপাশি টেলিটক মোবাইল থেকে এসএমএস করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করা যাচ্ছে। এ বছর মাধ্যমিক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ছাড়াও ২০১৫-১৬ সালে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবেন। মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন। এবার মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ লাখ ২৭ হাজার ৬৮৮ জন ছাত্র এবং ৭ লাখ ৪ হাজার ৩৪ জন ছাত্রী। কোনো ঝামেলা ছাড়াই শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারছেন জানিয়ে ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক বলেন, বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইআইসিটি) এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবার একাদশে ভর্তির আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণে কারিগরি সহয়তা দিচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকে একাদশের ক্লাস শুরু হবে।

শেয়ার করুন