Saturday, June 3, 2017

সোনাগাজীর চরছান্দিয়ায় মোস্তফা-খোদেজার অসম লড়াই


বিশেষ প্রতিনিধি:
সোনাগাজীর চরছান্দিয়া ইউপির ওলামাবাজার সংলগ্ন ৯০ দশকের দিনমজুর বর্তমানে প্রভাবশালী বিত্ত বৈরভের অধিকারী মোাহাম্মদ মোস্তফা মিয়ার সাথে হতদরিদ্র বিধবা খোদাজা বেগম অসম লড়াই "টক অব দি সোনাগাজী"হয়ে উঠেছে। মোস্তফা লড়ছে তার ক্ষমতা কতটুকু রয়েছে তাহা প্রমানের জন্য আর খোদেজা লড়ছে তার একমাত্র বসত ভিটে রক্ষা করার জন্য।অনুসন্ধানে দেখা গেছে মোস্তফার পক্ষে রয়েছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,দলীয় ক্যাডার ও প্রশাসনের সমর্থন।

অপরদিকে খোদেজার ভরসা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। তার পক্ষে নীরিহ গ্রামবাসী ছাড়া প্রকাশ্য কাউকে থাকতে দেখা যায়নি। এ অসম লড়াইয়ে কে জিতবে? মোস্তফার অর্থ,বৃত্ত,ক্ষমতা নাকি খোদেজার ভিটে বাড়ী রক্ষার সংগ্রাম। দুইজনের কেন এ দ্ধন্ধ,কেনইবা খোদাজার ভিটে বাড়ী দখলের চেষ্টা? কেন মোস্তফা বিধবা খোদেজার সাথে লড়াই করতে যাবে? ঘটনার পিছনে তাকালে অনেক অপ্রীয় সত্য প্রকাশ হয়ে যায়। তাদের দ্বন্ধের শুরু বেশী দিন হয়নি।

খোদেজা বেগম চরছান্দিয়া গ্রামের মৃত আরফান আলী সারেং এর মেয়ে। অল্প বয়ষে বিয়ে হওয়ার কিছুদিন পর ১৫ বছর পূর্বে তার স্বামী হারুনুর রশিদ দুগ্ধপোষ্য দুই শিশু সন্তানসহ চার সন্তানকে রেখে মারা যায়। তারপর পিতার বাড়ী খোদেজার স্থায়ী ঠিকানা হয়ে উঠে।মানুষের বাড়ীতে কাজ করে খোদেজা তার সন্তানদের নিয়ে বাঁচার লড়াইয়ে সংগ্রাম করছে। প্রতিবেশী প্রভাবশালী মোস্তফাও খোদেজাকে তার জীবন সংগ্রামে অনেক সহায়তা করেছে।খোদেজা তার পিতা আরফান আলী সারেং এর ৩৫ শতক ভুমি ওয়ারিশি সম্পত্তি হিসেবে পেয়ে বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বসবাস করছে। মৃত আরফান আলী সারেং এর অপর সন্তান আকবর আলী তার অংশের সম্পত্তি গোপনে প্রতিবেশী মোস্তফার নিকট ১০ বছর পূর্বে বিক্রি করে অন্যত্র চলে যায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন আকবর আলী বাড়ী বিক্রি করার পর মোস্তফার পৃষ্ঠপোষকতায় ভয়ংকর জলদস্যু হয়ে উঠে তবে মোস্তফা আকবর কে পৃষ্ঠপোষকতার কথা দৃঢভাবে অস্বীকার করেছে। নিজের বাড়ীর সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য প্রভাবশালী মোস্তফা বিধবার ভিটেবাড়ী ক্রয়ের প্রস্তাব দিলে খোদেজার বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাক্ষানের মাধ্যমে মোস্তফা-খোদেজার অসম লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়। অপরদিকে মোহাম্মদ মোস্তফা ৯০ দশকে দেশে দিনমজুরের কাজ করতো। তার পিতা পঙ্গু অবস্থায় ওলামাবাজারে খিলি পান বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করতো। মোস্তফা ৯০ দশকের শেষ দিকে কনাস্ট্রাকশন ভিসায় সৌদি আরব গমন করে। জানা যায়, আল আরবে সে পরিত্যিক্ত মালামাল বিক্রি করে হঠাৎ ক্রোড়পতিতে পরিনত হয়।

যার কারণে এলাকায় এক সময়ের দিন মজুর মোস্তফার যথেষ্ট প্রভাব প্রতিপত্তি সৃষ্টি হয়। এলাকার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মোস্তফা অনেক আর্থিক অনুদান দিয়েছে বলে তিনি দাবী করেছে। এলাকার সকল দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে তার দহরম মহরম সম্পর্ক গড়ে উঠে। এমনকি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সাথেও তার নীভিড় যোগাযোগ রয়েছে যাহা তিনি নিজের থেকে বলার চেষ্টা করছে। নিজের ক্ষমতা জাহির করার জন্য সম্প্রতি মোস্তফা কয়েকজন মিড়িয়া কর্মীকে দিয়ে গুনকিত্তন তৈরী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচাররে ব্যবস্থা করেছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি মোস্তফাকে মিড়িয়া কর্মীর সহায়তা নিতে যোগসূত্র তৈরী করে দেয়। মোস্তফা-খোদেজার অসম লড়াই শুরু হয়

যেভাবে:-
এলাকার বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খোদেজা তার বসত বাড়ী বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করার পর থেকে মোস্তফা বিভিন্ন কৌশলে তার উপর অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করে যাতে খোদেজা তার বসত বাড়ী বিক্রি করতে বাধ্য হই। কিন্তু খোদেজা পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করে তার বসত বাড়ী রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যায়। এক্ষেত্রে মোস্তফা সরাসরি লড়াই না করে কুটনীতি কৌশল অবলম্বন করে। সূত্র জানায়, এজন্য মোস্তফা প্রথমে খোদেজাকে কারা সহায়তা করতে পারে তাদের বাগে আনার ফর্মুলা গ্রহন করে।

শেয়ার করুন