Thursday, June 1, 2017

শিক্ষক সংকটে ভোগছে ফেনী সরকারী পাইলট স্কুল


মো. ইউনুছ ভূঞাঁ সুজন:
ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা ও একাডেমিক ভবন সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত। ৫২ শিক্ষকের বিপরীতে ২৪ শিক্ষক দিয়ে চলছে  শিক্ষা কার্যক্রম।

জানা যায়, ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি  ১৮৮৬ সালে পতিষ্ঠত হয়ে অত্যন্ত সফলতার সাথে উচ্চ মাধ্যমিক  শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে ফেনী  জেলাসহ বৃহত্তর নোয়াখালী ব্যাপী।

ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করে অনেকই  আজ সরকারী -বেসরকারী বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকান্ডের সাথে সম্পর্কিত হয়ে দেশ ও মাতৃভূমির সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।


ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষিকা জানান, ১টি বিজ্ঞানাগার, ১টি প্রশাসনিক ভবন, ও প্রায় দু'শত বছরের ১টি পরিত্যাক্ত পুরাতন ভবন নিয়ে ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম  পরিচালনা করা  হচ্ছে।

পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন না থাকায় বিজ্ঞানাগারের ৫টি কক্ষে ও প্রশাসনিক ভবনের ৬টি কক্ষে  ক্লাস নেওয়া হয়।  এছাড়া দু'শত বছরের  পরিত্যাক্ত পুরাতন  ভবনকে ল্যাব ও এসেম্বলি (জাতীয় সংগীত) পরিচালনার কাজে  ব্যাবহার করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২টি শিফটে যথা ক্রমে সকালে প্রভাত শাখা ও দুপুরে দিবা শাখায় মিলে প্রায় ২৫০০ ছাত্রদের কে  ৫২ জন শিক্ষকের বিপরীতে ২৪ জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

অফিস সূত্রে জানা যায়, ৫২ জন শিক্ষকের বিপরীতে ২৪ জন শিক্ষক দিয়ে ২ শিফটে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ২৮ পদ শূন্য রয়েছে। পদ গুলো হলো, বাংলা ৮টি পদের বিপরীতে ৬টি পদ শূন্য রয়েছে,গণিত ৬ টি পদের বিপরীতে ৫টি পদ শূন্য রয়েছে,  ইংরেজী ৮ টি পদের বিপরীতে ৩টি পদ শূন্য রয়েছে,  সমাজ ৪টি পদের বিপরীতে ২টি পদ শূন্য রয়েছে, ধর্ম ৪টি পদের বিপরীতে ২টি পদ শূন্য রয়েছে, রসায়ন বিজ্ঞান ৪টি পদের বিপরীতে ১টি পদ শূন্য রয়েছে,  জীব বিজ্ঞানের ৪টি পদের বিপরীতে ২টি পদ শূন্য রয়েছে, ব্যবসায় শিক্ষা ৪টি পদের বিপরীতে ৪টি পদ শূন্য রয়েছে, ভূগোল ২টি পদের বিপরীতে ১টি পদ শূন্য রয়েছে।

 চারু কলা ২টি পদের বিপরীতে ১টি পদ শূন্য রয়েছে, শারিরিক ২টি পদের বিপরীতে ১টি পদ শূন্য রয়েছে, ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জানান, আমরা শিক্ষক সংকট ও পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন না থাকা স্বত্বেও আমরা অত্যান্ত আন্তরিকতার সাথে আমরা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চারিয়ে যাচ্ছি অনেক সময় আমাকেও অফিসের কার্যক্রম পরিচালনার পাশা-পাশি একাদিক ক্লাস নিতে হয়। আমাদের প্রতিষ্ঠানে  প্রধান শিক্ষিকার অফিস থাকলেও তাও প্রয়োজনের তোলনায় অপ্রতুল অনেক সময় শিক্ষকবৃন্দ জায়গার সল্পতা ও চেয়ারের অভাবে অফিসিয়াল মিটিং'র সময় দাড়িয়ে থাকতে হয়। নেই কোন সহকারী প্রধান শিক্ষকের অফিস। নেই কোন লাইব্রেরীর ব্যবস্থা।

শিক্ষক শূন্যতা ও প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় সমস্যা সংক্রান্ত কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষক শূন্যতার কথা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ডের ডাইরেক্টর সামছুল হুদা কে যাবতীয় বিষয়ে অবিহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান, তিনি অারো বলেন, সামছুল হুদা আমাদেরকে যাবতীয় সমস্যা সমাধানের আস্সাশ দেন।
এদিকে  ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শূন্যতা মূলক সমস্যা নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ডের ডাইরেক্টর সামছুল হুদার সাথে মোবাইলে একাদিক বার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অভিভাবকদের মতে, যদি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক শূন্যতা দূর ও নতুন পদ সৃষ্টি এবং পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন নির্মান করা হয় তাহলে প্রায় দু'শত বছরের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী এ বৃহত্তর নোয়াখালী ও ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পূর্বের ন্যায় সতেচফূর্ত ভাবে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে বলে অভিভাবকেরা মনে করেন।

ফলাফল সংক্রান্ত বিষয় জানতে চাইলে ফেনী পাইলট স্কুলের প্রধান  শিক্ষিকা বলেন, ২০১৭ সালের এস এস সি পরিক্ষায় ৩০৩ জন পরিক্ষার্থী অংশ গ্রহন করে  ২৯৩জন কৃতকার্য হয়। ও ১০জন অকৃতকার্য হয়। এর মধ্যে ৭০ জন A+, ১৬৪ জন A, ৩ জন A-  এবং ৫৬জন Bপায়।  পাশের হার ৯৪.৬শতাংশ।

শেয়ার করুন