Friday, June 9, 2017

কাতারের সম্পদ লুট করতে হামলা চালাবে সৌদি বংশরা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘ইনস্টিটিউট ফর গাল্ফ অ্যাফেয়ার্স’র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আলী আল-আহমেদ স্পুৎনিককে বলেন, কাতারের সমস্ত সম্পদ দখল করা হতে পারে সম্ভাব্য এ আগ্রাসনের একটি বড় কারণ। তিনি বলেন, “কাতারে সৌদি আগ্রাসনের বিষয়টি আমি ধারণা করছি। কাতার সীমান্তের কাছে সৌদ সেনাদের চলাচলের খবর পাচ্ছি এবং সৌদি সেনারা প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

আলী আহমেদ সতর্ক করে বলেন, কাতারে সৌদি আগ্রাসন খুবই দ্রুত হবে যা কেউ কল্পনাও করতে পারছে না। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তারা দু জনই কাতারে সৌদি আগ্রাসনকে সমর্থন করবেন। আলী আহমদ বলেন, “আমার কাছে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য খবর রয়েছে যে, এরইমধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আল আরবকে বলে দিয়েছেন- কাতারে সামরিক আগ্রাসনের বিষয়ে তার কোনো আপত্তি নেই।”

আলী আহমেদ আরো বলেন, সৌদি বংশ যদি কাতারে আগ্রাসন চালায় তাহলে তাতে জোরালো সমর্থন দেবে মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। এর মধ্যে বাহরাইনে রয়েছে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি।

আমেরিকা-ভিত্তিক এ গবেষক বলেন, সৌদি সরকার কাতারের ওপর খুবই ক্ষিপ্ত; সৌদি সরকার কখনই ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদেরকে স্বধীন হতে দেবে না; এছাড়া বাহরাইন কাতরকে ঘৃণা করে। সৌদি নেতারা কাতারকে করদরাজ্যে পরিণত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ইয়েমেনের পলাতক সরকারের মতো কাতারকেও দাসত্ব গ্রহণে বাধ্য করাতে চান।

সৌদির দুটি লক্ষ্য রয়েছে- প্রথমত, কাতারের সঙ্গে সৌদিদের দাসসুলভ সম্পর্ক করতে চায় যা একেবারেই দাস-শ্রমিকের মতো। দ্বিতীয়ত, কাতারের বিপুল পরিমাণ রিজার্ভ তহবিলের ওপর দৃষ্টি পড়েছে সৌদি বংশদের; তারা এ সম্পদের দখল নিতে চায়।

গবেষক আলী আহমেদ বলেন, প্রায় এক শতাব্দি আগে রাজা আবদুল আজিজ আল আরবকে যে আদর্শের ওপর দাঁড় করেয়েছিলেন তা থেকে সৌদি নেতৃত্ব আবার ডাকাতি ও দস্যুতার দিকে ফিরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সৌদি ছিল লুটতরাজ ও ডাকাতি নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি রাষ্ট্র এবং আলে সৌদের এটাই ছিল আসল রূপ। তারা ছিল মরুচারি ও লুটপাটকারী; তারা ছিল বেদুইন দস্যু। এখন তাদের আবার অনেক অর্থের প্রয়োজন।

আলী আহমেদ বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি শাসকদেরকে পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, তিনি আশা করেন সৌদি সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে আমেরিকার প্রতিরক্ষাখাতে বিপুল অংকের অর্থ দেবে যা রিয়াদের ওপর চাপ বাড়িয়ে তুলেছে। আমেরিকা-ভিত্তিক এ গবেষক বলেন, এখন সৌদি বংশদের পাশ ফিরতেই অর্থের প্রয়োজন; এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে আর্থিক দাবি তুলেছেন। ফলে তাদের অর্থ শেষ হয়ে যাবে। এসব কারণে তারা অর্থের নতুন প্রবাহ বের করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গবেষক আলী আল-আহমদ সবশেষে বলেন, সৌদিরা খুবই অঙ্গীকারাবদ্ধ যে, তারা কাতারে একেবারে আজ্ঞাবহ শাসক বসাবে।

সূত্র: পার্সটুডে

শেয়ার করুন