Tuesday, July 4, 2017

আরব আমিরাতে আগামী বছরের মধ্যে ৫৫-৭০ ভাগ বৈধ শ্রমবাজার হারাবে বাংলাদেশ


আবুল খায়ের ছোটন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে:
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশী প্রবাসীদের মধ্যে বয়ে চলছে ব্যাপক হতাশার চিন্তা। হতাশ হয়ে পড়েছে প্রায় ৭০ ভাগ বাংলাদেশী শ্রমিকরা। স্থায়ী ভাবে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, দেশের প্রায় শ্রমিকরা কাজ করে বাংলাদেশী মালিকানাধীন।

এবং তারই ধারাবাহিতায় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় উঠে আসে দেশের প্রায় ৬০%, ভাগ এই অধীনে অন্তর্ভুক্ত আছে এবং বাকী ৪০%, ভাগ শ্রমিক  স্থায়িত্ব ও বিভিন্ন দেশীয় কোম্পানীতে কর্মরত আছে। এই হিসাব'টির গড় বৈধ-অবৈধ দেশীয় শ্রমিক নিয়ে বলা হয়েছে। গত কয়েক বছর আগের বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, আমিরাতে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ১৩ লক্ষ বাংলাদেশী আছে বলে প্রকাশ পায়।

কিন্তু বর্তমানে তা ধারণাগত ভাবে বলা যায় যে আগের তুলনায় এখন সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ বাংলাদেশী আছে। বর্তমানে শ্রমিক কমে যাওয়ার,  তার কারণ হচ্ছে ভিসা জটিলতা। ২০১২ সাল থেকে আমিরাতের  ভিসা বন্ধ হওয়াতে বাংলাদেশীদের অবৈধ সংখ্যা ক্রমন্নয়ে দিনদিন বৃদ্ধি  পাচ্ছে। এদের মধ্যে কেউ আছে কোম্পানী বন্ধ  হওয়াতে ভিসা পরিবর্তন না করতে পারা। আবার কেউ আছেন কাজের পরিমাণে যথার্থ বেতন না পাওয়া বা ইত্যাদি কারণে ভিসা  পরিবর্তন না করতে পারা। তাতে বাংলাদেশীরা অনেকে বাধ্য  হয়ে আবার দেশে ফিরতে হচ্ছে। বিশেষ ক্ষেত্রে বাংলাদেশী কোম্পানীদের বেহাল অবস্থা। স্থানীয়ভাবে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায় যে, বাংলাদেশী শ্রমিক / লোকবল কম থাকাতে তাদের প্রতিনিয়ত লোকসানে পড়তে হচ্ছে। এতে কোম্পানীর মালিকদের বাধ্য হয়ে তার ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করতে হচ্ছে। সেই কারণে বাংলাদেশী শ্রমিকদের অবৈধভাবে থাকতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানা যায়। এই বিষয়ে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের কয়েক জন মালিকদের সাথে বলতে গেলে, তাদের চোখের পানি আর মুখে সমস্যার বর্ণনায় উঠে আসে। তারা বলেন, বিগত ৫ বছর ভিসা বন্ধ থাকায় ক্রমে ক্রমে বিপাকে পড়ছি আমরা।

এবং শেষ পরিণতি তাদের নিজেদের অবৈধ ভাবে চলাফেরা করতে হচ্ছে।পাশাপাশি তাদের আয়াতাত্তাধীন কয়েক জন শ্রমিকও অবৈধ হতে হয়েছে। তার কারণ নিয়মিত লোকসানে, না পেরেছে লাইসেন্স নবায়ন করতে, না পেরেছে লোকের ভিসা লাগাতে। বিগত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা তার পর থেকে বর্তমানে সরকারী সকল কুটনৈতিক চেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মত। প্রবাসীদের ভাগ্যের কি পরিহাস্য আজও তা সফল হয়নি। তবে  সরকারী যে সকল মন্ত্রীদের আমিরাতে সফর হয়েছে সকল সফরকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়েছে প্রবাসীরা।

প্রবাসীদের মতে সরকার তাদের জন্য যতটুকু করেছে তাতে তারা সন্তুষ্ট আছে, এবং তার পাশাপাশি তারা বলেন প্রধানমন্ত্রী, যদি আরো একবার  চেষ্টা করেন ভিসা জটিলতা নিরসন করতে। তা হলে তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চির কৃতজ্ঞ্য থাকবেন বলে জানান প্রবাসীরা।

বাংলাদেশী ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন উচ্চপদস্থ লোকদের মতে এমতবস্থায় চলতে থাকলে দেশের শ্রমবাজার পড়বে হুমকির মুখে এবং আমিরাত হয়ে পড়বে বাংলাদেশী শূন্য। তাই ঠিক তাদেরই একটাই দাবী সরকার যেন  দেশের মানুষের স্বার্থে ভিসা জটিলতার নিরসনে কুটনৈতিক চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।


শেয়ার করুন