Wednesday, July 5, 2017

কেমন কেটেছিল প্রবাসীদের ঈদ আনন্দ


আবুল খায়ের ছোটন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে:
প্রবাসের ঈদ কতটা কষ্টের, তা বলে বুঝানো বড় দায়। ঈদ মানে আনন্দ ঈদ মানে খুশি, কিন্তু এই ঈদ প্রবাসীদের জন্য কত দু:খের তা এক মাত্র প্রবাসীরাই জানে। পবিত্র ঈদুল  ফিতর সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঈদের আনন্দ আমেজ নিমেষেই কেটে গেল। প্রবাসে ঈদে বিশেষ ভাবে আনন্দ উদযাপন করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ান প্রবাসীরা। তারা দেশের মত ঈদে, একে অপরকে দেখতে যায় এবং পোষাক ক্রয়ে ব্যস্ত থাকে। ঠিক  তেমনি প্রত্যেকবারের মত এইবারেও তা দেখা মিলে তাদের মাঝে।

আসল কথা হচ্ছে মানুষ অনেক আশা, বুকে কষ্ট নিয়ে প্রবাস পাড়ি দেয়। পিতা-মাতা, ভাই-বোন, পাড়া -প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনকে ভুলে একা একা ঈদ করাটাই অনেক কষ্টকর। এই কষ্টটাকে ভুলতে তারা ঈদ নামের দিনটি কে কাজে লাগায়। প্রবাস জীবনে অনেক সময় অনেকের ঈদ কি?  তাও তারা জানেনা। তাই প্রবাস জীবনটা  প্রবাসীদের জন্য বড়ই  নিষ্ঠুর-কষ্টে সৃষ্টের একটা অধ্যায়।

এইবার দেখা যাক কেমন কেটেছিল আমিরাতের প্রবাসীদের ঈদ। দিনটি ছিল ঈদের ৩য় দিন। কেমন কাটছে প্রবাসীদের ঈদ! তা জানার জন্য আমরা কয়েকটি নতুন নির্মানাধীন বিল্ডিংয়ে গেলাম। সেখানে দেখা মিলে বাংলাদেশী শ্রমিকদের। প্রশ্ন ছিল কেমন কেটালেন এবারে ঈদ? আর কি অমনেতে একটা বড় শাঁষ নিয়ে বলে এইতো  ঈদ আর কেমন  কাটবে  মোটামুটি। এইবার ২য় প্রশ্ন ঈদে কয় দিন ছুটি পেলেন?  ভাই আমাদের আবার ছুটি কি, কাজ করলে টাকা  না করলে মাসিক বেতন থেকে দিনের হিসেব কেটে নিবে মালিক। তাই বাধ্য হয়ে কাজ করতে হচ্ছে। ঠিক এই ভাবে তাদের কাছ থেকে আরো অনেক কথা বেরিয়ে আসে।

রাত পোহালেই ঈদ  তারা সেই রাতেও কাজ করতে  হয়েছে। ঈদের জন্য মাত্র দুইদিন ছুটি পায় ঈদেরদিন ও তার পরের দিন। তার পর থেকে কর্ম শুরু। পবিত্র মাহে রমজানের ২৯টি রোজা কাজের মধ্যে দিয়ে সম্পুর্ণ করে প্রবাসীরা। সারাদিন রোজা রেখে খাঁ খাঁ  রোদে কাজ  করা কতটা কষ্টকর তা মাত্র তারাই জানে।

এই ধারায় পালিত হল পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ মানে আনন্দ ঈদ মানে খুশি, এই কথা টা  আমাদের সকলেরই জানা আছে। কিন্তু ঈদ মানে প্রবাসীদের জন্য কি? তা আমরা একবারও ভেবে দেখিনি।এই ঈদকে নিয়ে কবি গানেগানে বলেছিলেন ও রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। তাইতো সবাই গানের সুরে তলের নাচে মনটাকে আরেকটু মাতিয়ে তুলি। যেখানে দেশের মানুষ ঈদ আনন্দ করতে একমাস আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। এইবার ঈদের কি কি করবে, সব ঠিক করে। বিশেষ করে সবার একটাই সিন্ধান্ত থাকে এইবার ঈদে নতুন জামা কিনতে হবে মন মতো করে। তারপর কোন কোন আত্মীয়দের বাড়ি  যাওয়া যাবে। বিনোদনের জন্য কোথায় যাওয়া  যাবে ইত্যাদি নিয়ে সবাই ব্যস্ত।

আর তা প্রবাসীদের ক্ষেত্রে অনেকটা ভিন্নতা প্রকাশ পায়। দেখা যাক কেমন  ভিন্নতার প্রকাশ! যখন রমজান আসছে আর মাত্র এক মাস বাকি আছে, এমন খবর শুনে। তারা চিন্তিত হয়ে পড়ে। কারণ  তারা জানে রমজানে বাড়িতে টাকা  দিতে হবে অন্য মাসের তুলনীয় একটু বেশি। অন্যান্য মাসের চেয়ে রমজানে পরিবারের খরচটা একটু বেশি দরকার হবে। তার পরবর্তীতে আসবে ঈদ, তা আর একটা চিন্তানীয় করে তুলে। তাই প্রবাসীদের মনে বয়ে চলে হতাশা, চিন্তা। তাই প্রবাসী বাধ্যতামূলক ভাবে তার মালিক থেকে অতিরিক্ত টাকা ধার / যে কোন পারটাইম নামক অতিরিক্ত কাজের সন্ধান করে। এই ভাবে যারা কষ্ট করে সফল হয় তারা হয়তো  ঈদে কিছুটা শান্তি পায়। আর যারা তাও করতে পারেনি, তার মনে কষ্ট  ছাড়া আর কিছুই নেই।

শেয়ার করুন