Tuesday, July 4, 2017

ভারীবৃষ্টিতে সোনাগাজীর চরদরবেশে স্লুইস গেইট ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন


বিশেষ প্রতিনিধি:
সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নের নবী উল্লার বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন ৯ নং স্লুইস গেইটটি ভারীবৃষ্টির কারণে ভেঙ্গে যাওয়ায় ২টি ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। অভিযোগ উঠেছে ইতিপূর্বে স্লুইস গেটটির কয়েকটি স্থানে ভাঙ্গনের দেখা দিলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন স্লুইস গেইটটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষনে উপকূলীয় এলাকার অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথগুলো দখল হয়ে যাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আর এ জলাবদ্ধতার কারণে অতিরিক্ত পানির চাপে উপজেলার নবী উল্যাহ বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন চরচান্দিয়া ও চরদরবেশ ইউপির সীমানায় বেড়ীবাঁধের উপর অবস্থিত ৯ নং স্লুইস গেটটি সোমবার রাতে  বিলীন হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্থান সরকার উপকূলীয় জনগনকে ছোট ফেনী নদীর জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করতে ২০ কিলিমিটার দীর্ঘ আউটার বেড়ীবাঁধ নির্মান করে।বেড়ীবাঁধের ৫টি স্থানের ছোট ফেনী নদীর মোহনাগুলোতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও নদীর লোনা জল যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষ্যে ৫টি স্লুইস গেট নির্মান করে। স্লুইস গেটগুলো রক্ষনাবেক্ষনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে বেতনভুক্ত তত্তাবধায়নকারী নিয়োগ করা হয়।

পরবর্তীতে  স্লুইস গেইটগুলোর যথাযথ  রক্ষানাবেক্ষন না করার কারনে ধীরে ধীরে সেগুলো ধ্বংস হতে থাকে। ১৯৮২ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে স্লুইস গেট গুলো সংস্কার করা হলেও দীর্ঘদিন অব্যাবস্থাপনার কারনে সেগুলো ব্যাবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে।

গত মাসে ঘূর্নীঝড় মোরার আঘাতে স্লুইস গেটের রাস্তার একাংশ  ক্ষতিগ্রস্থ হলে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষনে ৯ নং স্লুইস গেটটি বেড়ীবাঁধের ভিতরের পানির চাপে সোমবার রাতে স্লুইস গেইটটি ভেঙ্গে পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়।

যার কারণে উপকূলীয় ২টি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের  মানুষের যোগাযোগের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যায় ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে গ্রামগুলোতে বসবাসরত কয়েক হাজার মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্লুইস  গেটটি সংস্কারের জন্য গত কয়েক বছর যাবৎ স্থানীয়  পানী উন্নয়ন বোর্ড, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকজনদের বার বার অনুরোধ করা হলেও তারা  কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরজমিনে দেখা গেছে জনসাধারন ঝুঁকি  নিয়ে নৌকায় করে যাতায়াত করছে। সোমবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুর রহমান ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ভুট্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জনগনের দুর্ভোগ লাগবে জরুরী ভিত্তিতে অস্থায়ী সাকো নির্মান ও আগষ্ট মাসের মধ্যে কালভার্ট নির্মানের প্রতিশ্রুতি দেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কহিনুর আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় জানান, স্লুইস গেটটি নির্মানে সরকারী অনুদান পাওয়া গেছে এবং অতিশয় কাজ শুরু হবে। এসময় সোনাগাজী নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুর রহমান ও  ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন ও স্থানিয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন