Wednesday, July 5, 2017

সেনবাগে বিভিন্ন এলাকায় হাত বাড়ালেই মিলছে গাজা, ফেন্সিডিল ও ইয়াবা


ইমরান হোসেন মামুন:
নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলা ২ নং কেশারপাড় এলাকায় হাত বাড়ালেই এখন মিলছে গাজা, ফেন্সিডিল ও ইয়াবার মত মাদক। বিশেষ করে রাতের বেলায় কানকিরহাট কলেজ, শহীদ মিনারে, বসে মাদকের আসর।

এতে তরুণ, যুবকদের মধ্যে এ নেশাদ্রব্যের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেকে নেশার কবলে চলে গেছেন বলে স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়। এছাড়া কোনও কোনও শিক্ষকও ইয়াবাতে আসক্ত হয়ে পড়ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। অনেক ব্যবসায়ীও ইয়াবার নেশায় মজে ব্যবসা-বাণিজ্য নাকি খুইয়ে বসেছেন।

এদের মধ্যে কেউ কেউ ইয়াবার ব্যবসাতেও নাকি নিয়োজিত হয়ে পড়েছেন। অথচ এই সর্বনাশা ইয়াবা মানুষের মেধাশক্তি বিনষ্ট করে ফেলে। কোনও কাজে মনোযোগ থাকে না। জীবনীশক্তি ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। অনেকে নিজের জীবন সম্পর্কেও হতাশ ও অনাগ্রহী হয়ে পড়েন। বাড়ির কথা মনে থাকে না ইয়াবায় আসক্তদের। এমনকি মা-বাবা, ভাইবোনদেরও নাকি মনে রাখতে পারেন না বিনাশী নেশা ইয়াবা আসক্তরা।

এরা ধীরে ধীরে ক্ষুধামন্দায় ভোগেন। শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। শরীরে নানা অসুখ-বিসুখ বাসা বাঁধে লেখাপড়াসহ সব কাজেই অমনোযোগী হয়ে পড়েন ইয়াবা আসক্তরা। অর্থাৎ ইয়াবার নেশায় যাদের পায় তারা আর মানুষ থাকেন না। সব কাজে তাদের মধ্যে মারাত্মক ঔদাসীন্য দেখা যায়। এভাবেই এই সর্বনাশা ইয়াবা আমাদের সম্ভাবনাময় তরুণসমাজকে ধ্বংসের দিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

আমাদের তরুণ ও যুবসমাজ কিভাবে এর কবল থেকে রক্ষা পাবে তা সমাজবিদ ও সচেতন মানুষকে চিন্তিত করে তুলেছে। এই ইয়াবার ছোবল ভয়াবহ আকার ধারণের জন্য সামাজিক অপরাধ ও অবক্ষয়ও দ্রুত বাড়ছে বলে সমাজচিন্তকদের ধারণা। নেশাখোরদের কাছে টাকা কোনও ব্যাপার না। তাদের চাই কেবল ট্যাবলেট। ইয়াবা। ফেন্সিডিলের বোতল।

এলাকায় মাদকের ছোবলেতরুণ যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। পুলিশ আটকের খবর পাওয়া যায়। স্থানীয়রাও মাঝে মধ্যে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে কোনভাবেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

শেয়ার করুন