Friday, February 1, 2019

সহকর্মীর পদোন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে একজন স্বাস্থ্য সহকারীর কান্ড!

সহকর্মীর পদোন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে একজন স্বাস্থ্য সহকারীর কান্ড!





স্টাফ রিপোর্টার :
দুজনের সরকারি চাকরির শুরু একই সময়ে, একই ব্যাচে, একই পদে স্বাস্থ্য-সহকারী হিসেবে। কিন্তু বর্তমানে চট্টগ্রামের জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া ক্রমান্বয়ে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর হতে বর্তমান পদে পদোন্নতি পান আর হারুন অর রশিদ থেকে যান স্বাস্থ্য সহকারী পদেই । ব্যাচমেটের এই পদোন্নতি ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারেননি পদোন্নতি বঞ্চিত সীতাকুন্ডের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী হারুন অর রশিদ।
নিজের নাক কেটে হলেও অন্যের যাত্রা ভংগের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন তিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়, স্বাস্হ্য মন্ত্রনালয়, দূর্নীতি দমন কমিশন,স্বাস্হ্য অধিদপ্তর সহ বিভিন্ন  সরকারি দপ্তরে  সুজন বড়ুয়ার বিরুদ্ধে  স্বনামে বেনামে একাধিকবার অভিযোগ দায়ের করেন হারুন-অর-রশিদ।
কি ছিল সে অভিযোগ?
অভিযোগ ছিল সুজন বড়ুয়া ভুয়া নাগরিকত্ত্ব সনদ ও নিয়োগের সময় ভুয়া সার্টিফিকেট দাখিল করেছেন। দুটি অভিযোগই তদন্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে স্বাস্থ্য অধিওদপ্তরসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তর। মজার ব্যাপার হলো ০৭ জানিয়ারি, ২০১৩ সালে রাংগামাটির সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান দুটি অভিযোগই ভিত্তিহীন বলে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ৩০ মে ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বিভাগের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ কাজী শফিকুল আলম নাগরিকত্ত্ব সনদ সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করে  ১১২৭২/১(৬) স্মারকে অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবরে প্রতিবেদন দেন। একই অভিযোগ পুণরায় করলে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর তারিখে রাঙ্গামাটির তৎকালীন সিভিল সার্জন ডাঃ স্নেহ কান্তি চাকমা  অভিযোগ দুটিকে ভিত্তিহীন বলে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। একই অভিযোগ তদন্ত করেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা; উদয় সংকর চাকমা। ১৯/০৭/২০১৬ তারিখের ১৯২৭ স্মারকের পত্রে জনাব সুজন বড়ুয়াকে ভুয়া নাগরিকত্বের দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয় এবং চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “ জেলা প্রশাসক প্রদত্ত স্থায়ী বাসিন্দা সনদ, বোমাং রাজার সনদ, ইউপি চেয়ারম্যান সনদ, ২০১৩ সালের পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের লিখিত সাক্ষ্য প্রমাণে এটা প্রতীয়মান হয় যে নাগরিকত্ত্ব সনদ সংক্রান্ত অভিযোগকারীর অভিযোগ ভিত্তিহীন”।

এতগুলো দপ্তরের এতগুলো তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পরও দমে যাননি হারুন অর রশিদ। ০৩ জুলাই, ২০১৮ তারিখে সিভিল সার্জন ফেনী বরাবরে একই অভিযোগ দাখিল করেন। সিভিল সার্জন, ফেনী ডাঃ হাসান শাহরিয়ার তদন্ত প্রতিবেদনে এই অভিযোগ দুটিকেই মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেন। এতেও ক্ষান্ত হন না হারুন অর রশিদ। তিনি ০৪ আগস্ট, ২০১৮ পুণরায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সুজন বড়ুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। সেই পুরনো অভিযাগ এতকিছুর পরও আবারও আমলে নেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পুণরায় অভিযোগ ভিত্তিহীন  বলে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়।
অবশেষে কোন জায়গায় ঠাই না পেয়ে হারুন-অর-রশিদ আশ্রয় নেন কিছু ভুইফোড় মিডিয়ার যারা বিনা যাচাই বাছাইয়ে তথ্য প্রমাণ ব্যতিরেকেই হারুন-অর-রশিদের পক্ষে মিডিয়ায় লিখতে থাকে। এতে ভীষণ মানসিক পীড়ার সম্মুখীন হন সুজন বড়ুয়া। যেকোন মানুষের নামেই মিথ্যা অভিযাগ মামলা দেওয়া প্রচলিত আইনে অপরাধ। একজন সরকারি কর্মচারি হয়ে সেটি করা ফৌজদারি অপরাধের বাইরেও অসদাচারনের শামিল। প্রায় ৬ বছর ধরে একজন স্বাস্থ্য সহকারী তার সহকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেই চলেছেন; আর অভিযোগ মিথ্যা বলে বার বার তদন্ত প্রতিবেদন আসছে। সর্বশেষ, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ তারিখের ১৭০৬ স্মারকের পত্রে বারবার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দাখিলের অপরাধে স্বাস্থ্য বিভাগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন। এরই প্রেক্ষিতে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখের ৩৬৮/১(৫) স্মারকে হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের ব্যবস্থা নেন।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জানান, স্বাস্থ্য সহকারী হারুন অর রশীদ'র অভিযোগের বিসয়টি আমরা অবগত এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনও আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে পাঠিয়েছি। মহাপরিচালক ও দপ্তর যে ব্যবস্থা নিবেন, তাই আমরা মেনে নিবো।

এ ব্যাপারে হারুন অর রশিদ বলেন, সুজন বড়ুয়ার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কোন সঠিক তদন্ত হয়নি। কারন তদন্ত শুরু হলে বাদীকে নোটিস করা হয়, কিন্তু তেমন কোন নোটিস না করেই তদন্ত করা হয়। এমন একপক্ষ তদন্ত গ্রহন যোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, আমাকে স্বাস্থ্য  অধিদপ্তর হতে অভিযোগ করা হয় যে আমি একজন সরকারী কর্মকর্তা হয়ে আরেকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন বারবার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন  অভিযোগ আনলাম এবং তার জন্য আমাকে অনুলিপি কারন দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয় এবং দশ কর্ম দিবসের  কারন দর্শানোর কথা বলা হয়। আমি দশ কর্ম দিবসের  আগেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে হাজির হয়ে কারন জানিয়ে আসি।

এ ব্যাপারে সুজন বড়ুয়া জানান, “ আমার সহকর্মী হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। তবে তিনি আমার উপরে যে সকল অভিযোগ এনেছিলো তা প্রায় ৭ টি  ভিন্ন ভিন্ন তদন্তে মিথ্যা বলে প্রমানিত হয়েছে। আমার আর কিছু বলার নেই। আমি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত প্রতিহিংসার এই রূপ দেখে।আমার দপ্তরের মহাপরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জন এর প্রতি আস্থা রয়েছে।

শেয়ার করুন