Saturday, April 13, 2019

অধ্যক্ষ সিরাজের সকল অপকর্ম দেখুন


ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ ও রাফি হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিরাজ উদ্দৌলা একজন ভয়ঙ্কর অপরাধী। বছরের পর বছর ধরে
শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি করেও পার পেয়ে যান তিনি।
জামায়াত নেতা হলেও নিজের সুরক্ষা নিশ্চিতে ২০০১ সাল থেকেই ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তিনি গড়ে তুলেছিলেন সুসম্পর্ক। আর কৌশল হিসেবে ওইসব নেতাকে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতেন তিনি।
জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর মাদ্রাসার তহবিল থেকে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সিরাজের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিকে এনামুল করিম। অথচ পরে এ নিয়ে আর কিছুই হয়নি।
এমনকি সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ থাকা অবস্থায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ফেনীর মহীপালে ২০১৩ সালে উম্মল ক্বুরা নামে একটি মাদ্রাসা এবং ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন।
ওই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তিনি। সেখানেও বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আবদুল কাইয়ুম নামে এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে এক কোটি ৩৯ লাখ টাকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০১৫ সালে ফেনীর আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এই মামলা এখনও বিচারাধীন। এই মামলায় একাধিকবার তিনি কারাগারেও ছিলেন।
এদিকে ১৯৯৬ সালে ফেনী সদরের দৌলতপুর সালামতিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে অনিয়ম এবং ছাত্র বলাৎকারের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
ফেনী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন জানিয়েছেন, সিরাজের বিরুদ্ধে তিনটি নাশকতার মামলা আছে।
এছাড়া ২০১৫ সালের পর থেকে কলেজের বিভিন্ন অর্থনৈতিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে। অধ্যক্ষ নিয়ন্ত্রিত গ্রুপটির নেতৃত্ব দেয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন।
মাদ্রাসার নিজস্ব তহবিল থেকে সাততলা ভবন তৈরির অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে এই গ্রুপটি তৎপর হয়ে ওঠে।
মাদ্রাসা সূত্র জানায়, গত বছর পুরনো ভবন ভাঙার কাজের ঠিকাদারি পান রুহুল আমিনের সহযোগী মাকসুদ আলম। পরে বিক্ষুব্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে পৌরসভায় অভিযোগ দেন শেখ আবদুল হালিম মামুন। পরে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। মাদ্রাসা মার্কেট থেকে প্রতি বছর মার্কেটে আয় হতো এক লাখ টাকা। এই টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়েও দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব ছিল।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, আমি কাউকে শেল্টার দেইনি। আমি কোনো ভাগবাটোয়ারাতেও নেই। ছয় মাস আগে কেন আমাকে কমিটিতে ঢোকানো হল এটাও রহস্যজনক।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবদুল হালিম মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি অধ্যক্ষের অপকর্মের বিরোধিতা করেন। তিনি কাউকে কখনই শেল্টার দেননি বলেও দাবি করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত অক্টোবরে বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা আরও এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেছিলেন। ওই ছাত্রী স্থানীয় অন্য একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের মেয়ে।
ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করেছিলেন তিন শিক্ষক। পরে অধ্যক্ষ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
পরে বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে ওঠে। সেখানে তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পদাধিকারবলে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আক্তারুন্নেছা শিউলি ওই মিটিংয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে আলটিমেটাম দেন। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।
এ বিষয়ে ওই ছাত্রীর বাবা শুক্রবার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, ওই সময় আমি অধ্যক্ষ সিরাজকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে তিনি অস্বীকার করেছেন।
তখন তিনজন শিক্ষক এর প্রতিবাদ করেছিলেন। পরে তাদের নাজেহাল করতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। পরে আমরা আর এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ দেইনি।
তবে জেলা প্রশাসন বরাবর এ নিয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছিল। সেটার তদন্ত হওয়ার কথা শুনেছিলাম। পরে আর অগ্রগতি হয়নি।
প্রতিবাদকারী গণিত বিভাগের শিক্ষক বেলায়েত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমরা যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করে তিনজন কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছিলাম। আমরা চাই কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষাঙ্গনে যৌন হয়রানির শিকার না হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার নুরুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, তিন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা। এ নিয়ে তদন্ত কমিটি করার দাবি তিনি তুলেছিলেন। পরে আর এ নিয়ে তদন্ত হয়নি।

শেয়ার করুন