Wednesday, April 24, 2019

পুলিশের গাফলতির বিষয়ে জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের মতামত নিলেন পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটি


জাবেদ হোসাইন মামুন->>>
নুসরাত হত্যার ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি তদন্তে এসে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সোনাগাজীর বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,  স্থানীয় সাংবাদিক ও পরীক্ষার্থী বেশ কয়েকজন ছাত্রীর সাথে কথা বলেন এবং তাদের লিখিত মতামত গ্রহন করেন। পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সম্রাট মো. আবু সুফিয়ান সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ সদর দফতরের   ডিআইজি মো. রুহুল আমীনের নেতৃত্বে এর আগে ওই তদন্ত কমিটির লোকজন তিন দিন যাবৎ তদন্ত করেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাফির পরিবার, শিক্ষক, পুলিশ, শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সদস্যদের মতামত গ্রহন করেছেন। এরপর তাদের হাতে বেশ কিছু তথ্য আসায় পূনরায় তদন্তে এসে স্থানীয় সাংবাদিক, ইউপি চেয়ারম্যান বৃন্দ এবং পরীক্ষার্থী ছাত্রীদের সাথে কথা বলেন। পুলিশের গাফিলতির ব্যপারে তদন্ত কমিটি প্রধান পুলিশ সদর দফরের ডিআইজি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানাবেন। ইতোমধ্যে এইরবিষয়ে তারা অনেকগুলো তথ্য উপাত্ত পেয়েছে সবগুলো যাচাই বাছাই চলছে। প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে আরো কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এর আগে গত বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার তদন্তে এসে ডিআইজি রুহুল আমিন বলেছিলেন,
 ২৭ তারিখের যৌন হয়রানির ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, ম্যানেজিং কমিটি ব্যবস্থা নিলে নুসরাতের গায়ে আগুনের ঘটনা এড়ানো যেত। প্রাথমিকভাবে নুসরাতের ঘটনায় সোনাগাজী থানার সাবেক ওসির ত্রুটি বিচ্যুতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওসি সহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাফিলতির বিষয়ে তদন্ত চলছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ হতে আরো সময় লাগতে পারে। নথিপত্র যাচাই-বাচাই চলছে। সাধারন একটি মামলা তদন্ত করতে এক মাস সময় লাগে। এটি একটি বড় ঘটনা, তাই কিছুটা সময় লাগবে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনেক খারাপ হিস্ট্রি রয়েছে। যা গভর্নিং বডির সদস্যরাও জানতো। যদি তার ব্যপারে আগে ব্যবস্থ্যা নেয়া হতো তাহলে আজকে এধরণের ঘটনা ঘটতো না। এই ঘটনার সাথে স্থানীয় রাজনীতির বিষয়ও জড়িত রয়েছে। একই দলের দুইজন কাউন্সিলর অধ্যক্ষের পক্ষে বিপক্ষে মানববন্ধন করেছে। প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। সাক্ষ্যগ্রহন চলছে পুরোপুরি তদন্ত শেষে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মীদের আনুষ্ঠানিক জানানো হবে।তদন্ত কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে  আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবেন বলে জানিয়েছিলেন।
গত ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। গত ১০এপ্রিল রাত সাড়ে নয়টায়  নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরদিন ১১এপ্রিল সন্ধ্যায় আলহেলাল একাডেমী সংলগ্ন সামাজিক কবরাস্থানে দাদীর কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড়ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে গত ৮এপ্রিল ৮জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ১০এপ্রিল মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে হস্তান্তর করে। পিবিআই ২২জন আসামি গ্রেফতার করে। এর মধ্যে নিজেদের জড়িয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ৮জন। ৭জন রিমান্ডে রয়েছেন।

শেয়ার করুন