Thursday, April 18, 2019

নুসরাত হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন এজাহারভুক্ত আসামি হাফেজ আবদুল কাদের




জাবেদ হোসাইন মামুন->>>
সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৭নং আসামি হাফেজ আবদুল কাদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি প্রদানের জন্য তাকে বৃহস্পতিবার (১৮এপ্রিল) বেলা ১টা ৩০ মিনিটে ফেনীর বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিনের আদালতে হাজির করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন হাফেজ আবদুল কাদের। পিবি আইয়ের চট্রগ্রাম বিভাগের এসপি জানান, আবদুল কাদের তার স্বীকারোক্তিতে বলেছেন ঘটনার আগে সিরাজ উদ দৌলার সাথে সাক্ষাৎ তার নির্দেশে কাদেরের হোস্টেলে একাধিকবার বৈঠক এবং ঘটনার দিন সে গেট পাহারার দায়ীত্বে ছিলেন। এর আগে সিরাজের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন অংশগ্রহন করেছিলেন।
পিবিআই জানায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর এলাকার ৬০ ফিট এলাকা সংলগ্ন ছাপড়া মসজিদের পাশে আবদুল কাদেরের বড় ভাই রহিমের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আবদুল কাদের সোনাগাজী আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব সফরপুর গ্রামের মনছুর খান পাঠান বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে। তার বাবা সাহেবের হাটের চা দোকানি। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে হাফেজ আবদুল কাদের পঞ্চম। তিনি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক এবং ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার অনুগত হিসেবে মাদরাসার হোস্টেলে থাকতেন আবদুল কাদের। তার পিতা আ'লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সে সরাসরি শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। তবে উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মোস্তফা জানিয়েছেন ইতোপূর্বে অপকর্মের দায়ে তাকে শিবির থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল।
আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। এদের মধ্যে অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুকছুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, জান্নাতুল আফরোজ মনি, আবদুর রহিম শরিফ, মো. শামীম ও হাফেজ আবদুল কাদের।
এর আগে রোববার দিনে ছাত্রদল কর্মী, ওই মাদ্রাসার ছাত্র  নুর উদ্দিন, রাতে মাদ্রাসা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম এবং বুধবার বিকালে ওই মাদ্রাসার চাত্র, ছাত্রলীগ কর্মী আবদুর রহিম শরীফ সহ তিন আসামি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা তিনজনই ওই মাদ্রাসার ছাত্র। জবানবন্দিতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার নির্দেশে তারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করেছে পিবিআই।
এর আগে টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি। পরদিন সকালে ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে নুসরাতকে দাফন করা হয়।

শেয়ার করুন