Monday, April 29, 2019

রাফি হত্যা মামলার আসামি শামীমের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ



মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার এজহারভুক্ত, স্বীকারোক্তি দেয়া ও রিমান্ডে থাকা আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমের ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও তার মায়ের মোবাইল জব্দ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শনিবার রাতে শামীমকে নিয়ে সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ভূঞা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এগুলো জব্দ করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন, শাহাদাত হোসেন শামীমকে নিয়ে তার বসতঘর ও ভূঞাবাজারের দোকানে অভিযান চালিয়ে একটি একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল জব্দ করা হয়। এ সময় বেশ কিছু নথিপত্রও জব্দ করা হয়।
এর আগে ১৪ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন শাহাদাত হোসেন শামীম। পরে তার জবানবন্দি যাচাই করার জন্য ২৫ এপ্রিল একই আদালতে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করে পিবিআই। পরে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নুসরাত হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমকে ১২ এপ্রিল ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই। তিনি নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি।
গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগিরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১০এপ্রিল রাত সাড়ে নয়টায় মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।
এ ঘটনায় তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ৮এপ্রিল অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ৮জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামালা করেন। মামলার এজাহারভুক্ত ৮ আসামিসহ এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। এর মধ্যে সিরাজ উদ দৌলাহ সহ ৯জন আসামি আদলাতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

শেয়ার করুন