Saturday, September 21, 2019

কন্যা সন্তানের মা হলেন সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলার আসামি কারাবন্দি মণিরা

কন্যা সন্তানের মা হলেন সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলার আসামি কারাবন্দি কামরুন্নাহার মণি‌‌। সে নুসরাতের সহপাঠী ও বান্ধবী ছিল।

 ২১ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আবু তাহের জানান, মা ও মেয়ে দুজনই সুস্থ্য রয়েছেন। এর আগে পাঁচ মাসের গর্ভের সন্তান নিয়েই নুসরাত কিলিং মিশনে অংশ নেয় মণি। গত ২১ এপ্রিল শনিবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ফেনীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে মণি এ জবানবন্দি দেন। ২২ এপ্রিল রোববার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। একই দিন ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে ১৬৪ ধারার এ জবানবন্দি দেয় এ মামলার অন্যতম আসামী জোবায়ের।

জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। জোবায়েরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ম্যাচের কাঠি দিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরায় জোবায়ের। রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায় পপি।

সেখানে আগে থেকেই আমি (জোবায়ের) অপেক্ষা করছিলাম। আমার সঙ্গে ছিলেন মণি, পপি, শাহাদাত ও জাবেদ। রাফি ছাদে এলে আমরা তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ দিই। এতে নুসরাত রাজি না হলে তার হাত-পা বেঁধে ছাদে শুইয়ে ফেলি। এরপর রাফির পা চেপে ধরেন পপি, মুখ চেপে ধরেন শাহাদাত, মণি বুক চেপে ধরেন, জাবেদ কেরোসিন ঢালেন এবং আমি (জোবায়ের) দিয়াশলাই দিয়ে গায়ে আগুন ধরাই।

নুসরাত জাহান রাফি হত্যার কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত ছিল কামরুন নাহার মণি। নুসরাতের বুকসহ শরীর চেপে ধরেন এবং তিনি বোরকা ব্যবস্থা করে দেন।নুসরাতের পা বেঁধে চলে যাওয়ার সময় মণি তাকে শম্পা বলে ডাকে। প্রসঙ্গত,গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে যান। পরীক্ষা শুরুর আগে তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নেয় পাঁচ জন। তারা হল- শাহাদাত হোসেন শামীম, জোবায়ের হোসেন, জাবেদ হোসেন, কামরুন নাহার মণি ও উম্মে সুলতানা পপি। এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল রাতে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। মামলার ১২ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটির আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক চলছে । বাদী পক্ষের আইনজীবীদের আশাবাদ আগামী অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে এ আলোচিত মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে।

শেয়ার করুন